মঙ্গলবার

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ৫ কার্তিক, ১৪৩৩

সৌদি আদালতের রায়ের কপি চেয়ে অপেক্ষায় বাংলাদেশ, চলছে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৫৫

শেয়ার

সৌদি আদালতের রায়ের কপি চেয়ে অপেক্ষায় বাংলাদেশ, চলছে আলোচনা
ছবি সংগৃহীত

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিচারিক রায়ের কপি চেয়েছে বাংলাদেশ। রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির বলেছেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য আদান-প্রদান ও প্রক্রিয়ার কোনো এক জায়গায় ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সিতি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদে অনৈতিক কাজ করার দায়ে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছে। সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তারের পর তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগ আনে। পরে তাঁদের সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন। মক্কা অঞ্চলে এ দণ্ড কার্যকর করা হয়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর জানা যায়, দুই বাংলাদেশির বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনকে অবহিত করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে নোট ভার্বাল দেয় বাংলাদেশ।

এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়াহকে তলব করে মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে ঢাকা। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। ঘটনাটি ঘিরে কনস্যুলার সম্পর্কিত ভিয়েনা কনভেনশনের বিধান অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রায়ের কপি পেলে বিস্তারিত জানানো হবে

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ২০২৩ সালে অভিযুক্তদের আটক করে সৌদি আরবের পুলিশ। এ সময়ের মধ্যে তাঁদের পরিবারের কোনো সদস্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। রায়ের কপি হাতে এলে তাঁদের পরিচয় এবং তাঁদের মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল, তা জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় অনেক বাংলাদেশি কারাভোগ করছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে তাঁদের তালিকা বাংলাদেশকে পাঠায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই তালিকাও খতিয়ে দেখছে। দুই বাংলাদেশির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে উল্লেখ করে তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আধাবেলার মধ্যে দেশের প্রধানমন্ত্রী, পুরো মন্ত্রিসভা, এমনকি বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিবও দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাঁর ভাষায়, এটিকে কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। শেখ হাসিনাকে নিয়ে কথা বলা সময়ক্ষেপণ ছাড়া আর কিছু নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্য ও প্রক্রিয়াগত ঘাটতি খতিয়ে দেখছে দুই দেশ

দুই দেশ সফর শেষে দেশে ফিরে গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, সৌদি আরবে যে প্রক্রিয়ায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর, ভালো ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরব জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। এ ঘটনায় তথ্য বিনিময়ে ঘাটতি রয়েছে। কেন এই ঘাটতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তথ্য ও প্রক্রিয়ার কোনো এক জায়গায় ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, অপরাধের অভিযোগ এনে যেভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য হতাশাজনক। তাঁর ভাষায়, আল্লাহর ঘরের পবিত্রতা এবং মক্কায় যাওয়ার উদ্দেশ্য মানুষের পবিত্রই হয়। যে ঘটনা শোনা গেছে, তা সত্য হলে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রায় কার্যকর হয়ে যাওয়ায় এখন আর সেই সুযোগ নেই। এখন তাঁরা কোথায় ঘাটতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখবেন।

দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবির বলেন, তাঁদের পরিচয় গণমাধ্যমের খবরে এসেছে এবং বিষয়টি পরিষ্কার। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো সৌদি নাগরিক অপরাধে জড়ালে সৌদি কর্তৃপক্ষকে তা জানানো হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কনস্যুলার সেবা পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

সৌদি আরবে অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে সে দেশের স্থানীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পবিত্র স্থানে মানুষ পবিত্র নিয়তে যায়। সেখানে গিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানো ঠিক নয় এবং গ্রহণযোগ্যও নয়।

ভারতের সঙ্গে কনস্যুলার সংলাপ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, সংলাপে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। যেসব বিষয়ে দুই পক্ষের আগ্রহ থাকবে, সেগুলোই আলোচনায় আসবে।