বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যুক্তরাজ্য। গত নয় বছরে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৪৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে দেশটি। সোমবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
মির্জাপুরে এশিয়ার দানবীর হিসেবে পরিচিত রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আগে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে সারাহ কুক বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে যুক্তরাজ্য। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে পারেন, সেটিই যুক্তরাজ্যের লক্ষ্য।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় অংশীদারত্ব বিদ্যমান। যুক্তরাজ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামগ্রিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।
মির্জাপুরে দুর্গাপূজার আয়োজনের প্রশংসা করে সারাহ কুক বলেন, কুমুদিনীতে দুর্গাপূজার আয়োজনে উপস্থিত হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত। এটি তাঁর তৃতীয়বারের মতো কুমুদিনীতে আসা। প্রতিবারই পূজার বর্ণিল আয়োজন, সংগীত, নাচ ও উৎসবের আনন্দ তাঁকে মুগ্ধ করে।
তিনি আরও বলেন, এ উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্রিত করে। সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে আনন্দ উদ্যাপন করেন। এটি একটি বিশেষ আয়োজন।
এর আগে কুমুদিনী কমপ্লেক্সে পৌঁছালে কর্তৃপক্ষ ফুল দিয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে স্বাগত জানায়। পরে তিনি কুমুদিনী লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমুদিনী কমপ্লেক্স থেকে নৌকাযোগে রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপে যান সারাহ কুক। সেখানে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
আরও পড়ুন:







