রবিবার

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৩ কার্তিক, ১৪৩৩

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ! আগে থেকে কিছুই জানত না সরকার?

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫১

আপডেট: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৫৩

শেয়ার

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ! আগে থেকে কিছুই জানত না সরকার?
ছবি সংগৃহীত

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর—এমনকি শিরশ্ছেদও করা হয় তাঁদের। জানা যায়, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করার অভিযোগে এই দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার। বাংলাদেশি ওই দুই প্রবাসী হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই জন্ম নেয় নানা আলোচনা-সমালোচনা।

আগে থেকে জানত না সরকার

তবে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে এই ঘটনা সম্পর্কে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা বাংলাদেশ সরকার কিছুই জানত না বলে জানা যায়। অন্তত তিন মাস ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়া, সেই সঙ্গে দীর্ঘদিন আটক থাকার পরও বিষয়টি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজানাই থেকে গেল।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে যাওয়ার পরও প্রশ্ন উঠছে—সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বাংলাদেশ সরকার কেন আগে থেকে কিছুই জানতে পারল না? কেনই-বা এমন পরিস্থিতিতে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারল না?

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য

শনিবার (১৭ অক্টোবর), পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।

একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনাকে বাংলাদেশের জন্য বড় শিক্ষা বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, প্রবাসে যে দেশেই বাংলাদেশিরা থাকুন না কেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সেই দেশের আইনই প্রযোজ্য হবে।

সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

এরই ধারাবাহিকতায়, রবিবার (১৮ অক্টোবর), সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ, শিরশ্ছেদ এবং এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয় তাঁর কাছে।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে কেন বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো তথ্য পৌঁছাল না, সেটিই এখন সময়ের বড় প্রশ্ন। সেই সঙ্গে প্রবাসীদের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা এবং সংকটময় মুহূর্তে দূতাবাসের কার্যকর ভূমিকা আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।