বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫৬ জেলার তরুণ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। এ কর্মসূচিতে একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন পাবেন। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করা, প্রকৃত উদ্যোক্তা চিহ্নিত করা এবং তাঁদের অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসার ঘটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রাথমিক পর্যায়ে আট বিভাগের আটটি জেলা মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোণায় আবেদন গ্রহণ করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসব জেলার ৬৪টি উপজেলার তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন জমা দেন আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তারা। এসব জেলা থেকে মোট ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আট জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে নেত্রকোণায়, ৫ হাজার ৩৫১টি। এ ছাড়া রংপুরে ২ হাজার ৭৪৫টি, নওগাঁয় ২ হাজার ৪৫৬টি, ঝিনাইদহে ২ হাজার ১৯১টি, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৫৫২টি, ভোলায় ১ হাজার ৫৪৫টি, মানিকগঞ্জে ১ হাজার ৩৪৩টি এবং ফেনীতে ১ হাজার ২৬১টি আবেদন জমা পড়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের আট জেলা বাদে অবশিষ্ট ৫৬ জেলার সব উপজেলার আগ্রহী তরুণেরা আগামী ১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত আবেদন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দিতে হবে।
আবেদন ফরম বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে। কর্মসূচির নীতিমালা গত ১৩ সেপ্টেম্বর এসএমইএসপিডি সার্কুলার নম্বর ০৫-এর মাধ্যমে জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালাটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট www.bb.org.bd এবং এসএমই পোর্টাল www.bb.org.bd/smespd_portal-এ পাওয়া যাচ্ছে।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্ত
উদ্যোগ কর্মসূচিতে আবেদনকারীর বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে। তাঁকে যে উপজেলার জন্য আবেদন করবেন, সেই উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। নিজের ব্যবসা শুরুর পরিকল্পনা বা ভালো কোনো ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেই আবেদন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আগে থেকেই ব্যবসা থাকতে হবে, এমন কোনো শর্ত নেই।
তবে আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসার জন্য ঋণ নিয়েছেন, ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন অথবা সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন, এমন ব্যক্তিরা এ সুবিধা পাবেন না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রসারে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:







