শুক্রবার

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১ কার্তিক, ১৪৩৩

যুব উন্নয়নে প্রশ্নের চুক্তি ১০ লাখে, গ্রেপ্তার সাত জনের পাঁচ জনই সরকারি কর্মচারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৫৬

আপডেট: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০১

শেয়ার

যুব উন্নয়নে প্রশ্নের চুক্তি ১০ লাখে, গ্রেপ্তার সাত জনের পাঁচ জনই সরকারি কর্মচারী
ছবি সংগৃহীত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনই সরকারি কর্মচারী। পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র দেওয়ার চুক্তিতে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট দল।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প, ব্যাংক চেক, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক রয়েছেন।

গ্রেপ্তার সাতজনের পরিচয়

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০) এবং এনবিআরে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮)।

৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থীর পরীক্ষা স্থগিত

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে মোট ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন।

সেদিন সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এসআরবি ছায়াতদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মতিঝিল, উত্তরখান, মিরপুর ও সাভারে অভিযান

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৪ অক্টোবর মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান এলাকা থেকে ইমদাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এসআরবি-৪-এর সহায়তায় মিরপুর-১০ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আসাদুল ইসলামকে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও চ্যাট পর্যালোচনা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর সাভার এলাকা থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৪। পরে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ১৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রশ্নপত্রের মূল উৎস শনাক্ত হয়নি

তদন্তসংশ্লিষ্ট দলের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র দেওয়ার চুক্তিতে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার দাবি করলেও এ বিষয়ে সন্তোষজনক তথ্য দিতে পারেননি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়।