বৃহস্পতিবার

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

ট্রান্সকমের সিমিন রহমানকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:২৫

শেয়ার

ট্রান্সকমের সিমিন রহমানকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ
ছবি সংগৃহীত

কোমল পানীয় সেভেন-আপ এক্সট্রা ফিজে নিম্নমানের উপাদান, অতিরিক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি এবং মোড়কজাতকরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে করা মামলায় ট্রান্সকম বেভারেজেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সিমিন রহমানকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর তাকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলাটি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিমিন রহমানকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর খিলগাঁওয়ের ব্রাদার্স কম্পিউটার্স অ্যান্ড কনফেকশনারি থেকে ২০০ মিলিলিটারের তিনটি সেভেন-আপ এক্সট্রা ফিজের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত ছয়টি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটিতে পণ্যটি উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

ডিএসসিসির নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক ও প্রসিকিউটিং অফিসার মো. কামরুল হাসান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পানীয়টিতে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি কৃত্রিম রাসায়নিক ও কেমিক্যাল সুইটনার ব্যবহার করে উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়েছে। পণ্যের লেবেলে ‘চিনি নেই, তবে নন-নিউট্রিটিভ সুইটনার আছে’ লেখা থাকলেও তা অত্যন্ত ছোট অক্ষরে ছাপানো হয়েছে। ফলে খালি চোখে সহজে লেখাটি দেখা বা পড়া যায় না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে ‘মোড়কবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং প্রবিধানমালা ২০১৭’ এবং ‘পণ্য মোড়কজাতকরণ বিধিমালা ২০২১’ লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। ল্যাব রিপোর্টে পানীয়টিকে ‘মানসম্পন্ন নয়’ এবং ‘নিরাপদ নয়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের রাসায়নিকযুক্ত পানীয় নিয়মিত পান করলে শিশুসহ যেকোনো বয়সের মানুষের শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৬, ২৭, ৩২(ক), ৪১ ও ৪২ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনের ৫৮ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

মামলার আবেদনে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ট্রান্সকমের ‘৭আপ ন্যাচারাল লেমন ফ্লেভার এক্সট্রা ফিজ’-এর সংশ্লিষ্ট ব্যাচসহ (ব্যাচ নম্বর ৮৭৪) এ ধরনের সব ক্ষতিকর পানীয় দেশের বাজার ও দোকান থেকে বাজেয়াপ্ত এবং প্রত্যাহারের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।