বৃহস্পতিবার

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

ডিএমপির সাবেক কমিশনার গোলাম ফারুক ও স্ত্রীর সম্পদ জব্দের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৪

শেয়ার

ডিএমপির সাবেক কমিশনার গোলাম ফারুক ও স্ত্রীর সম্পদ জব্দের নির্দেশ
ফাইল ছবি

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (অব.) খন্দকার গোলাম ফারুক এবং তাঁর স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের জমি ও ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতির মামলায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী এ আদেশ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মো. ইসমাঈল স্থাবর সম্পদ জব্দ ও অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধের আবেদন করেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, খন্দকার গোলাম ফারুকের নামে ঢাকার বাড্ডা ও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে থাকা ২১০ দশমিক ৬১ শতাংশ জমি এবং খিলগাঁওয়ে গাড়ি পার্কিংসহ ২ হাজার ৫৮৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট জব্দ করা হবে। ফ্ল্যাটটির গাড়ি পার্কিংয়ের আয়তন ১২০ বর্গফুট। এসব স্থাবর সম্পত্তির মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার ৭২৮ টাকা। এ ছাড়া তাঁর ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮২ টাকা ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, শারমিন আক্তার খানের নামে ঢাকার বাড্ডা ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্থানে থাকা ১৯৭ দশমিক ৬২ শতাংশ জমি এবং বনানীর একটি ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব সম্পত্তির মূল্য ১ কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫২ টাকা। পাশাপাশি তাঁর একটি ব্যাংক হিসাব ও একটি এফডিআর হিসাবে থাকা ১২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

আবেদনে সম্পদের অসংগতির তথ্য

দুদকের আবেদনে বলা হয়, খন্দকার গোলাম ফারুক ও শারমিন আক্তার খানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে সংগৃহীত নথিপত্র, বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য এবং আয়কর নথি পর্যালোচনায় তাঁদের সম্পদের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য আয়ের অসংগতি পাওয়া গেছে।

আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, খন্দকার গোলাম ফারুকের নামে দায়-দেনা বাদে নিট সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা পারিবারিক ব্যয় যোগ করে তাঁর অর্জিত মোট সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা। এর বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা। অর্থাৎ, গ্রহণযোগ্য আয়ের তুলনায় তাঁর অর্জিত সম্পদ ১ কোটি ২৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা বেশি, যা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, খন্দকার গোলাম ফারুকের স্ত্রী শারমিন আক্তার খান একজন গৃহিণী। তাঁর নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৩ কোটি ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা পারিবারিক ব্যয় যোগ করে মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ২৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। সে হিসাবে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের চেয়ে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বেশি, যা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনুসন্ধান বা তদন্ত চলাকালে এসব সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর, বিক্রি কিংবা অন্য কোনোভাবে গোপন বা বিলুপ্ত করার সুযোগ বন্ধ করা প্রয়োজন। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের স্বার্থে সম্পদ সংরক্ষিত রাখার জন্য তাঁদের নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করার আবেদন জানানো হয়।