বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পে বিশেষজ্ঞ নিয়োগের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের টার্মস অব রেফারেন্সে নির্ধারিত শর্তের সঙ্গে অন্তত তিনজন বিশেষজ্ঞের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁদের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। একই প্রকল্পে ২৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার আউটসোর্সিং চুক্তিতে ২৪০ জন কর্মী নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের মধ্যে ১৮৬ জনকে প্রস্তাবিত ডেঙ্গু গবেষণাগারের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যদিও ল্যাবরেটরির নির্মাণকাজের কার্যাদেশ এখনো দেওয়া হয়নি।
প্রকল্পটির নাম ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট। অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা বা ডিপিপিতে নির্ধারিত নিয়োগের শর্ত পরিবর্তন করে সংশোধিত টার্মস অব রেফারেন্স বা টিওআর তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন বিশেষজ্ঞ নিজেরাই টিওআরের খসড়া তৈরি, মূল্যায়ন কমিটি গঠন ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
প্রকল্পের মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন স্পেশালিস্ট পদে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলাম, এনভায়রনমেন্ট স্পেশালিস্ট পদে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. বিল্লাল হোসেন, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট পদে স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. মহঃ শের আলী এবং বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট পদে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করা এনামুল হক।
ডিপিপি, সংশোধিত টিওআর, শিক্ষাগত সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনায় অন্তত তিনজনের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে অসংগতি পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চার বিশেষজ্ঞের মধ্যে তিনজন সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং একজন হিসাবরক্ষক। তাঁদের বেতনের সঙ্গে প্রকল্পের অন্য কর্মকর্তাদের বেতনেরও বড় ব্যবধান রয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন
টিওআর অনুযায়ী, মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন স্পেশালিস্ট পদে সমাজবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, অর্থনীতি, গণিত, ব্যবসায় প্রশাসন বা এ ধরনের বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি ১৫ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা এবং উন্নয়ন সহযোগী বা সরকার-অর্থায়িত সরকারি খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে সাত বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে এমকম পাস করা আমিনুল ইসলামের জমা দেওয়া নথিতে মনিটরিং ও মূল্যায়ন বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট, সিনিয়র পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল স্পেশালিস্ট এবং সিনিয়র লোকাল গভর্নমেন্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করার কথা উল্লেখ করেছেন।
প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট পদে ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, ব্যবসায় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসন, সমন্বয়, পরিবীক্ষণ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা, স্থানীয় সরকারে তিন বছরের অভিজ্ঞতা এবং নগর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত রয়েছে। নগর উন্নয়নকাজে অভিজ্ঞ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ পদে নিয়োগ পাওয়া শের আলী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
এনভায়রনমেন্ট স্পেশালিস্ট পদে নিয়োগের শর্ত পরিবর্তন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অনুমোদিত ডিপিপিতে চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিবেশগত দিক নিয়ে অন্তত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পরিবেশগত কর্মপরিকল্পনা ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানোর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কাজের অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির টিওআরে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ হিসেবে অন্তত ১৫ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতার শর্ত দেওয়া হয়। এর মধ্যে উন্নয়ন সহযোগী বা সরকার-সহায়তাপুষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছয় বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন বিল্লাল হোসেন।
বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন বা বিসিসি স্পেশালিস্ট পদে মূল ডিপিপিতে নৃবিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, জনসংযোগ বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি এবং জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় বিসিসি ব্যবস্থাপনাসহ ১৫ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছিল। বিকল্প হিসেবে এ-সংক্রান্ত গবেষণায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং নগর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তব অভিজ্ঞতার শর্ত ছিল।
কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির টিওআরে সমাজবিজ্ঞান, জনসংযোগ, মনোবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান অথবা অন্য যেকোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির শর্ত রাখা হয়।
জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, এ পদে নিয়োগ পাওয়া এনামুল হক ঢাকা সিটি কলেজ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে বিকম এবং জগন্নাথ কলেজ থেকে এমকম পাস করেছেন। বিসিসি ব্যবস্থাপনা বা এ-সংক্রান্ত গবেষণায় তাঁর ১০ বছরের অভিজ্ঞতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এনামুল হিসাবরক্ষক, অর্থ ও প্রশাসন সমন্বয়কারী, ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং স্পেশালিস্ট, ফিন্যান্স ম্যানেজার, আঞ্চলিক অর্থ সমন্বয়কারী এবং ফিন্যান্স অ্যাসোসিয়েট অডিট হিসেবে কাজ করার কথা উল্লেখ করেছেন। গত ২৯ জুন তাঁকে প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞের দায়িত্বও দেওয়া হয়।
টিওআর তৈরি ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ
প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়। ১২ জন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের জন্য ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাঁরা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পে যোগ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, আমিনুল ইসলাম, এনামুল হক ও শের আলী টিওআরের খসড়া তৈরি, মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং বিশেষজ্ঞ বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। আনুষ্ঠানিক নিয়োগের আগেই তাঁরা প্রকল্প কার্যালয়ে বসে কাজ করতেন এবং নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্র তৈরিতে সহায়তা করেন।
প্রকল্পের শুরুর দিকের কার্যক্রম সম্পর্কে এনামুল হক জানান, শের আলী অতিরিক্ত সচিব থাকাকালে তাঁকে প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা একটি জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের কথা বলেন। শের আলী পরিকল্পনা বিভাগ থেকে প্রকল্পের ফাইল নিয়ে আসেন এবং তাঁকে কাজ করতে বলেন। এনামুলের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা দুজন মিলে টিওআর তৈরি, কমিটি গঠনসহ পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
শের আলী প্রকল্পটি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, প্রকল্পের ঋণ নিশ্চিত করতে তিনি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচক দলের সদস্য ছিলেন। বড় কোনো প্রকল্প পরিচালনা করেননি বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব থাকাকালে প্রকল্পটির দেখভাল করেছেন এবং বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়েছেন বলে জানান শের আলী। বিষয়টি স্বার্থের দ্বন্দ্ব কি না, জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি।
আমিনুল ইসলাম, বিল্লাল হোসেন, শের আলী ও এনামুল হকের প্রত্যেকের মাসিক বেতন ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। প্রকল্পে এ ধরনের পদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রাক্কলিত ব্যয় সাড়ে চার লাখ টাকা। শীর্ষ ১২ কর্মকর্তার মধ্যে আরও দুজন একই বেতন পান। তাঁরা হলেন ফিন্যান্সিয়াল স্পেশালিস্ট এস এম আব্দুল মোত্তালিব এবং পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট ড. শারমিন মিজান।
তবে আমিনুল, বিল্লাল ও শের আলী দাবি করেছেন, তাঁদের নিয়োগে কোনো সমস্যা নেই। নিজ নিজ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁরা চাকরি পেয়েছেন। এনামুলও একই ধরনের দাবি করেছেন।
নিয়োগের সময় দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের প্রয়োজন বিবেচনায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং তাদের অনুমোদনক্রমে টিওআর পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তৈরি টিওআর প্রকল্পের প্রত্যাশিত চাহিদা পূরণ করতে পারছিল না বলে এ পরিবর্তন আনা হয়।
প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সময় বিশ্বব্যাংক জীবনবৃত্তান্ত পরীক্ষা করে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করেছে। তবে বাকি ১১ জন বিশেষজ্ঞের নিয়োগ নিরীক্ষার বিষয়টি গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ইমেইলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। প্রকল্পের চুক্তি ও কেনাকাটার বিষয়েও পরবর্তী পর্যালোচনা করা হয়নি।
এ বিষয়ে প্রকল্পটির জন্য বিশ্বব্যাংকের টাস্ক টিম লিডার ইফফাত মাহমুদ ইমেইলে জানান, প্রকল্পের জনবল নিয়োগের দায়িত্ব বাস্তবায়নকারী সংস্থার। নিয়োগ অবশ্যই সরকারি বিধিবিধান ও প্রকল্পের সম্মত ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে করতে হবে। বড় অঙ্কের চুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের তদারকির আওতায় পূর্বানুমোদনভিত্তিক পর্যালোচনা এবং নমুনাভিত্তিক চুক্তির পরবর্তী পর্যালোচনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্বব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। প্রকল্পে সম্ভাব্য অনিয়ম বা অসদাচরণ সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকলে তা বিশ্বব্যাংকের ইন্টেগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্সিতে জানানো যায়। সংস্থাটি স্বাধীনভাবে ও গোপনীয়তার সঙ্গে এসব অভিযোগ তদন্ত করে।
গবেষণাগার নির্মাণের আগেই ১৮৬ কর্মী নিয়োগ
প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য ডেঙ্গুর বাহক মশা নিয়ে গবেষণা করা। এ লক্ষ্যে ২৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার আউটসোর্সিং চুক্তির মাধ্যমে ২৪০ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। গ্রেড ৬ থেকে ২০ পর্যন্ত বেতন কাঠামোর এসব কর্মী সরবরাহের জন্য গত বছরের ২২ জুন দরপত্র আহ্বান করা হয়।
প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, নিয়োগ দেওয়া ২৪০ জনের মধ্যে ১৮৬টি পদ প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ ল্যাবরেটরির জন্য। বাকি ৫৪ জন বাহক নিয়ন্ত্রণকর্মীর ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভায় কাজ করার কথা।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫৮ জন গত জুলাইয়ে যোগ দিয়েছেন। বাকি ৮২ জন শিগগিরই যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। বিশেষায়িত পদে নিয়োগ পাওয়া অনেকের মশা নিয়ন্ত্রণ বা বাহক ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ল্যাবরেটরি নির্মাণের জন্য ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট দরপত্র প্রকাশ করা হয় এবং ২৭ সেপ্টেম্বর তা খোলা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি। ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনার জন্যও কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি।
অন্যদিকে, দুই বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও প্রকল্পের প্রধান কার্যালয়ে বণ্টন করা হয়েছে। ল্যাবরেটরি চালু হওয়ার আগেই তাঁদের চাকরির মেয়াদের বড় অংশ কিংবা পুরো মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা।
মশা ও বাহক নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়োগ পাওয়া ৫৪ জনকে নিয়ে একাধিক সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের ভাষ্য, এসব জনবল অতিরিক্ত এবং সিটি করপোরেশনগুলো এ জনবল চায়নি। মশা নিয়ন্ত্রণে অভিজ্ঞতার অভাব থাকায় কর্মীদের উপযোগিতা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
২৪০ জন কর্মী নিয়োগের দরপত্র আহ্বান ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান।
তিনি বলেন, টিএমসিও ভবনের ওপরের দিকে সম্প্রসারণের জন্য সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি এবং নতুন করে ব্যয় প্রাক্কলন করতে সময় লেগেছে। ভবনের কাঠামোগত নথি সংগ্রহ এবং বিশ্বব্যাংকের আপত্তির পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করেও কাজ এগিয়ে নিতে হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের শতাধিক ইকোনমিক কোডে ভুল থাকায় পুরো ডিপিপি সংশোধন করতে হয়েছে। এসব কারণে বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে।
আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান আরও বলেন, ল্যাবরেটরির কর্মীরা বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি দলের সঙ্গে যন্ত্রপাতি প্রস্তুতের কাজ করছেন। ভবন নির্মাণের দরপত্র খোলার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মূল নির্মাণকাজ শুরু হলে পরবর্তী কার্যক্রম এগোবে।
নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ২৪০ জন কর্মীকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাঁদের একটি অংশকে তিনটি সিটি করপোরেশন ও দুটি পৌরসভায় পদায়ন করা হয়েছে। শতাধিক কর্মীর একটি অংশকে প্রশিক্ষণ শেষে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:







