আওয়ামী লীগের দেড় দশকের দুঃশাসনের সময় শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যা করার মামলায় সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে ভার্চুয়ালি ট্রাইব্যুনালে হাজিরের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর তামীম জানান, জিয়াউল আহসানের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন তার জেরা (ক্রস এক্সামিনেশন) অনুষ্ঠিত হবে। এ পর্যন্ত প্রতিদিন জিয়াউলকে নিয়মিত সশরীরে ট্রাইব্যুনালে আনা হলেও, বিগত তারিখে তাঁর পক্ষ থেকে একটি আবেদন জমা দেয়া হয়েছিল।
আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, জিয়াউল আহসান নিজের জীবননাশের আশঙ্কা করছেন। নিরাপত্তার কথা ভেবে জেলখানা থেকে প্রিজন ভ্যানে একা আসার পরিবর্তে তিনি অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে একই ভ্যানে যাতায়াত করার প্রার্থনা জানান।
প্রসিকিউটর তামীম আরও বলেন, ‘প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমরা ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছি যে, জীবননাশের আশঙ্কা ও নিরাপত্তার বিষয়ে ডিফেন্সের মতের সঙ্গে আমরা একমত। তবে তাঁর মূল প্রার্থনাটি ছিল—জেলখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে প্রিজন ভ্যানে একা না এসে অন্য আসামিদের সঙ্গে আসা। এই বিষয়ে আমরা আপত্তি জানিয়েছি। কারণ, তিনি যে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা করছেন, সেরকম অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে তাতে তিনিসহ অন্য আসামিরাও ঝুঁকিতে পড়বেন।’
তিনি জানান, ‘যেহেতু জিয়াউল নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তাই তাঁকে ট্রাইব্যুনালে সশরীরে না এনে প্রচলিত আইনের অধীনে জেলখানায় রেখে ভার্চুয়ালি হাজিরের জন্য আমরা প্রার্থনা করি। যেহেতু নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে, তাই ট্রাইব্যুনালে আসার প্রয়োজনই নেই।’
প্রসিকিউটর বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল আমাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন এবং আজ থেকে জিয়াউল আহসানকে জেলখানায় রেখেই ভার্চুয়ালি ট্রাইব্যুনালে হাজির করে বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনার আদেশ দিয়েছেন। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। জেলখানায় অডিও-ভিজ্যুয়াল কনফারেন্সের সব ব্যবস্থা রয়েছে। একইভাবে ট্রাইব্যুনালের এজলাসেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, যাতে তার সব কথা কোর্টরুমে শোনা যায় এবং ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমও তিনি জেলখানা থেকে শুনতে পারেন।’
আরও পড়ুন:







