সোমবার

১২ অক্টোবর, ২০২৬ ২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ার পর থেকেই একের পর এক আন্দোলনে উত্তপ্ত ভারত

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৪৪

শেয়ার

হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ার পর থেকেই একের পর এক আন্দোলনে উত্তপ্ত ভারত
ছবি বাংলা এডিশন

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা ধরে রাখতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী হামলা চালায় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের তোপের মুখে সোমবার (৫ আগস্ট) ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন আওয়ামী লীগের পলাতক সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

কিন্তু, রাজনীতির কী নির্মম পরিহাস! যে নরেন্দ্র মোদির সরকার আশ্রয় দিয়েছিল শেখ হাসিনাকে, সেই মোদি সরকারকেই এখন মুখোমুখি হতে হচ্ছে একের পর এক তীব্র আন্দোলনের। পরিস্থিতির এই নাটকীয় পালাবদলে অনেকেই আবার ভারতের চলমান আন্দোলনকে শেখ হাসিনার অলক্ষুণে প্রভাব বলে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্যও করছে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

২০২৬ সালের জুলাইয়ে ভারতে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক

সেই আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন প্রসঙ্গে উত্তাল ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন—এসআইআর—প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা এবং ক্ষমতাসীন বিজেপিকে নির্বাচনী সুবিধা দিতেই এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে।

আর এই বিতর্কের মধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি। শনিবার (১০ অক্টোবর)-এর কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিজুড়ে নেয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। আটক করা হয় বিক্ষোভকারীদের। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু শনিবার (১০ অক্টোবর)-এই দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয় দেশটিতে।

ধ্রুব রাঠির আটক

এরই মধ্যে জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে আটকের ঘটনা নতুন করে বিজেপি সরকারকে তীব্র বিতর্কের মুখে ফেলে। জানা যায়, দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচদের চলমান আন্দোলনে যোগ দেয়ার কথা ছিল জনপ্রিয় এই ইউটিউবারের। কিন্তু আন্দোলনস্থলে পৌঁছানোর আগেই গুরুগ্রামে নিজের বাসা থেকে আটক করা হয় তাঁকে।

প্রায় ১৮ ঘণ্টা পুলিশের হেফাজতে থাকার পর রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোররাত ৩টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয় ধ্রুবকে। এদিকে মুক্তির পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে আসতে দেখা যায় ধ্রুব রাঠিকে। তাঁর দাবি, এটি কোনো গ্রেপ্তার বা আটক নয়, বরং তাঁকে অপহরণ করা হয়েছিলো।

শুধু তাই নয়, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে আন্দোলন ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা, ধরপাকড় ও বিক্ষোভকারীদের আটকের পরও দমে যাননি আন্দোলনকারীরা। বরং দমন-পীড়নের মুখেও রাজপথ ছাড়তে নারাজ তাঁরা। সেই ধারাবাহিকতায় পরদিন, রবিবার (১১ অক্টোবর), আবারও রাজপথে নামে আন্দোলনকারীরা।

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ার পর থেকেই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে একের পর এক আন্দোলন, বিতর্ক আর উত্তেজনা—সব মিলিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে মোদি সরকারের। আর ভারতের এই চলমান আন্দোলনকে শেখ হাসিনার অলক্ষুণে বলেই মনে করছে অনেক বিশ্লেষক।