দীর্ঘ দুই বছর চার মাস। নিয়মিত সংবাদ পরিবেশন আর কঠোর পরিশ্রমের পর অবশেষে নোটিশ ছাড়াই মিললো অব্যাহতির আদেশ। এমন ঘটনার মুখে পড়েছেন নাগরিক টেলিভিশনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু।
টাকা দাবির অভিযোগ
বাবু অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটিতে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে তার কাছে দাবি করা হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। তবে আকস্মিক আর্থিক সংকটের কারণে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সম্পূর্ণ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছে এক মাসের সময় চান। তবে সেই আবেদন আমলে না নিয়ে এবং সময় না দিয়েই তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয় কর্তৃপক্ষ।
মোস্তাফিজুর রহমান বাবু জানান, দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্ক ও কর্মকাল বিবেচনা করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। এক মাস সময় পেলে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পুনরায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তার আবেদনে সাড়া না দিয়ে সেই জায়গায় তড়িঘড়ি করে অন্য একজনকে নিয়োগ দেয়া হয়ছে মোটা অঙ্কের টাকার মাধ্যমে।
ফোনালাপের রেকর্ড
‘বাংলা এডিশন’-এর হাতে এসেছে একটি ফোন আলাপের রেকর্ড। যেখানে নাগরিক টিভির ডিজিটাল ইনচার্জ রাইসুল নয়ন এবং জেলা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর মধ্যে টাকা লেনদেন ও সময় নিয়ে দীর্ঘ কথোপকথন স্পষ্ট শোনা যায়।
ফোনালাপ থেকে জানা যায়, একা আছেন কিনা তা নিশ্চিত হয়েই ডিজিটাল ইনচার্জ রাইসুল নয়ন মূল প্রসঙ্গ তোলেন। যেখানে সরাসরি তাকে টাকা দাবি করতে শোনা যায়।
উত্তরে প্রতিনিধি বাবু এক থেকে দেড় মাস সময় চাইলে ইনচার্জ জানান, ওপরের কর্তৃপক্ষ এত সময় মানবে না। সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ দিন সময় পাওয়া যেতে পারে।
রাইসুল নয়ন, মোস্তাফিজকে দ্রুত ১ লাখ টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে স্লিপের ছবি পাঠাতে বলেন। নয়ন প্রতিশ্রুতি দেন, টাকা জমা হলেই তিনি ওপরের এক ‘ভাই’-এর সাথে কথা বলে বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য ১৫-২০ দিন সময় দিবেন। একই সাথে, এসময় মোস্তাফিজকে চাকরি পাকাপোক্তের, যাবতীয় আশ্বাস দেন নয়ন।
নামের একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠানো হয়, সুনামগঞ্জের ওই স্থানীয় সাংবাদিককে।
এসময় মেসেজে আরো কথোপকথন হয় দুইজনের মধ্যে, কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাঙ্ক্ষিত পুরো অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় বদলে যায় পরিস্থিতি। ইনচার্জ রাইসুল নয়ন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিষয়টি এখন আর তার নিয়ন্ত্রণে নেই।
শুধু নয়নই নন, ডিজিটাল বিভাগের কর্মী ওয়াশিও, নানাভাবে অনেকের থেকে একই ধরনের টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
টাকা দাবি ও মোস্তাফিজের অব্যাহতির বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, নাগরিক টেলিভিশনের হেড অব নিউজ সাখাওয়াত হোসেন নবীন ফোনালাপটির সত্যতা স্বীকার করে জানান, ডিজিটাল ইনচার্জ রাইসুল নয়নকে ইতিমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁর জবাবের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এছাড়াও, মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত ৫ সেপ্টেম্বর মোস্তাফিজুরকে দায়িত্ব থেকে বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন:







