শুক্রবার

৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

খতিবের পক্ষে বিক্ষোভ, বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩৭

শেয়ার

খতিবের পক্ষে বিক্ষোভ, বায়তুল মোকাররমে উত্তেজনা
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে খতিব মুফতি আব্দুল মালেকের পক্ষে বিক্ষোভ করেছেন একদল মুসল্লি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় স্লোগান ও এক ব্যক্তিকে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, খতিব আব্দুল মালেককে অপসারণের উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামী ইন্ধন দিচ্ছে। এ সময় তাঁরা জামায়াত-শিবির ও মওদুদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

তবে খতিবকে অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যায়নি। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

বিক্ষোভ চলাকালে মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকীকে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেন বিক্ষোভকারীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে উদ্দেশ করে রাজাকার ও শিবির স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি থাকায় কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি খতিবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, পৃথিবীতে পাঁচজন মানুষের নাম নিতে হলে তাঁদের মধ্যে আব্দুল মালেকের নামও রাখতে হবে। খতিবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হলে জামায়াত-শিবিরের অবস্থা গোলাম আজমের মতো করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন মুফতি আব্দুল মালেক। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট আলেমদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আব্দুল মালেককে কওমি আলেমদের জামায়াতের জোটে যুক্ত হওয়াকে গোমরাহি বা পথভ্রষ্টতা হিসেবে বর্ণনা করতে শোনা যায়। একই বক্তব্যে জামায়াতের লোগোতে থাকা আকিমুদ-দ্বীন শব্দের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, শব্দটির মাধ্যমে ইসলামের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ সময় তাঁকে নাউজুবিল্লাহ বলতেও শোনা যায়।

অন্যদিকে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অংশ নেয়। বিএনপির সমর্থনে চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো আসনেই জয় পায়নি দলটি।

খতিবের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের ধারাবাহিকতায় শুক্রবারের এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। তবে তাঁকে অপসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।