বৃহস্পতিবার

৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৫৫

শেয়ার

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া জানালো ভারত
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ পুরোপুরি একটি আইনি বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা জানান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোবে।

একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী’ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। সেই লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রত্যর্পণে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে

এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিকে আইনি ও কাঠামোগত প্রক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেন।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স’ শীর্ষক সেশনে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হাইকমিশনার বলেন, ‘একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত কাঠামোগত। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিচার বিভাগ ও আদালত সরাসরি যুক্ত। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।’

ভারতে শেখ হাসিনার আশ্রয় নিয়ে যা বললেন হাইকমিশনার

২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত সরকার তাঁকে সেখানে নিয়ে যায়নি এবং দিল্লি তাঁর আগমনের জন্যও প্রস্তুত ছিল না।

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী তাঁকে ভারতে নিয়ে আসেনি। বাংলাদেশে সৃষ্ট চরম উদ্বেগজনক ও মর্মান্তিক পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁকে বহনকারী সামরিক উড়োজাহাজটি ভারতে পৌঁছায়। সেই মুহূর্তে তিনি কাগজে-কলমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফ্লাইটটির অবতরণ অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের কাছে প্রায় কোনো বিকল্প ছিল না। নিকট প্রতিবেশী হিসেবে সেই বাস্তবতাকে সামাল দেওয়া ছিল আমাদের দায়িত্ব।’

দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী যাচাই-বাছাই

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। তবে নয়াদিল্লি বারবার জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক পথেই অনুরোধটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছে ভারত।

দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোনো তাৎক্ষণিক স্বার্থ বা লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দীর্ঘদিনের গভীর সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

একজন দায়িত্বশীল প্রতিবেশী সবসময় সংকটে পাশে দাঁড়ায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজস্ব নিরাপত্তা মূল্যায়নে সম্পূর্ণ সক্ষম। পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিই আগামী দিনে দুই দেশের অংশীদারত্বকে এগিয়ে নেবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।