মঙ্গলবার

৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০ আশ্বিন, ১৪৩৩

তামিম, সাকিব ও মাশরাফিকে কেন ব্যবহার করতেন হাসিনা?

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪১

শেয়ার

তামিম, সাকিব ও মাশরাফিকে কেন ব্যবহার করতেন হাসিনা?
ছবি বাংলা এডিশন

মাশরাফি মুর্তজা, সাকিব আল হাসান কিংবা তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের তিন অনন্য তারকা হিসেবেই পরিচিত। তবে ক্রিকেটের পর্দায় তারা দেশের মানুষের আইকন হলেও, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সঙ্গে ফ্যাসিবাদী আমলে দেখা গেছে এই তিন তারকার গভীর ঘনিষ্ঠতা।

কখনো সাক্ষাৎ, কখনো বা প্রকাশ্য সমর্থন, কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা। ক্রিকেটের মাঠের বাইরেও রাজনীতির মঞ্চে তাদের উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অপরদিকে, শেখ হাসিনাকেও রাজনীতির মাঠে বিভিন্ন সময়ে এই ক্রিকেট তারকাদের ব্যবহার করতে দেখা যায়।

ক্রিকেটারদের ব্যবহারের প্রশ্ন

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দাঁড়ায়—দেশের সংগীতজগত থেকে শুরু করে রুপালি পর্দা, অসংখ্য তারকা থাকলেও তামিম, সাকিব ও মাশরাফিকেই কেন রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করেছিলেন পলাতক শেখ হাসিনা?

বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিকেট এ দেশের মানুষের কাছে শুধু একটি খেলাই নয়—এর সঙ্গে মিশে আছে কোটি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাস। আর সেই সময়ে মাশরাফি, সাকিব ও তামিমই ছিলেন দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় আইকন।

অপরদিকে, ঠিক সে সময়েই ফ্যাসিবাদী একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছিলেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে তার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন, ২০১৮’র রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালের আমি-ডামির মতো একের পর এক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ছিল চরম পর্যায়ের। বিরোধীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও কথিত সেই নির্বাচন ঘিরে জন্ম নিয়েছিল তীব্র ক্ষোভ।

সমালোচনা রয়েছে, শেখ হাসিনা তার সেই বিতর্কিত নির্বাচনকে কিছুটা স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতেই দেশের কোটি মানুষের অন্যতম আবেগের জায়গা ক্রিকেটকেই রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন। আর সেই কৌশলেরই অংশ হিসেবে সাবেক দুই ক্রিকেটার সাকিব ও মাশরাফিকে বলির পাঁঠা হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল বলে মনে করছে অনেক বিশ্লেষক।

তামিমের ঘনিষ্ঠতা ও বিতর্ক

অন্যদিকে, দেশের আরেক সুপরিচিত ক্রিকেটার ও বিসিবির বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল খানের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সক্রিয়তা না থাকলেও, শেখ হাসিনার সঙ্গে তার একাধিক ঘনিষ্ঠতার ছবি ও সাক্ষাৎ বারবার সামনে আসে। এছাড়াও সমালোচনা রয়েছে, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট, জুলাই আন্দোলনের এক দফা দাবির দিন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তামিম। যা নিয়ে প্রকাশ্যে আসলে শুরু হয় বিতর্ক।

মাশরাফিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

আর এই আলোচনা ও সমালোচনার মাঝেই সামনে এসেছে মাশরাফিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের জন্মদিনের শুভেচ্ছা পোস্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল পেজ থেকে মাশরাফিকে ‘হ্যাপি বার্থডে ক্যাপ্টেন’ শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করা হয়। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সাবেক এই ক্রিকেটারকে নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়।

সেইসঙ্গে মাশরাফিকে নিয়ে করা আওয়ামী লীগের এই পোস্টের পর সামনে আসছে আরও একটি প্রশ্ন—তাহলে কি এখনও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেট জগতের অন্যতম এই তারকার সখ্যতা বহাল আছে?

ক্রিকেটের মাঠে তাদের ব্যাট-বলের নৈপুণ্যে উচ্ছ্বসিত হয়েছে কোটি মানুষ। কিন্তু রাজনীতির মাঠে তাদের উপস্থিতি ও ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে গভীর ঘনিষ্ঠতা শুধু তাদের নিজস্ব সত্তাকেই বিতর্কিত করেনি, বিতর্কিত করেছে তাদের বর্ণাঢ্য ক্রিকেট ক্যারিয়ারকেও।