মেসার্স নাসিম এন্টারপ্রাইজকে ঋণ দিতে অনিয়ম ও যথাযথ মর্টগেজ না নেয়ার অভিযোগে সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার এই চার্জশিটের অনুমোদন দেয়া হয়। মামলাটি ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা), ঢাকা-১-এ দায়ের করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন- মেসার্স নাসিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, তৎকালীন দ্য ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের মিরপুর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক অপারেশন ইরফানুল হক, পদ্মা ব্যাংকের সাবেক ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক উদ্যোক্তা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী, মেসার্স বিলিভ ওয়ান অ্যাসোসিয়েটস সার্ভে অ্যান্ড পরিদর্শন কোম্পানির স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মো. আব্দুল মোতালেব পাটওয়ারী এবং পদ্মা ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখার সাবেক সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা প্রধান সাব্বির মোহাম্মদ সায়েম।
দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, আর্থিক লাভের অসৎ উদ্দেশ্যে নাসিম এন্টারপ্রাইজের ঋণ আবেদন যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করেই অনুমোদন করা হয়। ঋণের বিপরীতে যথাযথ মর্টগেজ নেয়া হয়নি। আবার সামান্য মর্টগেজের মূল্য বেশি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতির অবনতি থাকা সত্ত্বেও ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। এমনকি মর্টগেজ দলিল সম্পাদনের আগেই ঋণ বিতরণ করা হয়। এতে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের নথি অনুযায়ী, নাসিম এন্টারপ্রাইজকে ৯৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়। সুদসহ তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার না করে ফান্ড ডাইভারশনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়। একই সঙ্গে ঋণের অর্থ আদায়েও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুদক।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম।
আরও পড়ুন:







