মঙ্গলবার

৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২০ আশ্বিন, ১৪৩৩

বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিং লাইভ সিসিটিভির দাবিতে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪৪

শেয়ার

বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিং লাইভ সিসিটিভির দাবিতে আইনি নোটিশ
ছবি সংগৃহীত

দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের লাগেজ চুরি ও লুটপাট বন্ধে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের পুরো কার্যক্রম লাইভ সিসিটিভির মাধ্যমে সম্প্রচারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) জনস্বার্থে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন (SCBA ID 6202) এ নোটিশ পাঠান।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (CAAB) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী, যশোর ও বরিশাল বিমানবন্দরের পরিচালক ও ব্যবস্থাপক বরাবর নোটিশটি পাঠানো হয়।

কার্গো হোল্ড থেকে ব্যাগেজ বেল্ট পর্যন্ত লাইভ সম্প্রচারের দাবি

আইনি নোটিশে বলা হয়, বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার। অথচ দীর্ঘদিন ধরে দেশে আসা ও বিদেশগামী সাধারণ যাত্রী, পর্যটক, বিদেশি কূটনীতিক ও ব্যবসায়ী এবং প্রবাসী শ্রমিকরা লাগেজ চুরির শিকার হচ্ছেন।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়, উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ নামিয়ে কনভেয়ার বেল্টে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সময়ে অসাধু চক্র তালাবদ্ধ লাগেজ কেটে মোবাইল, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করছে। এতে যাত্রীরা আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সম্পত্তির মৌলিক অধিকার এবং ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জীবনের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।

অ্যারাইভাল লাউঞ্জে সরাসরি দেখানোর প্রস্তাব

নোটিশে বলা হয়, রানওয়ে ও ব্যাগেজ সর্টিং এলাকায় নজরদারির অভাব এবং সিসিটিভির অনুপস্থিত এলাকাকে কাজে লাগিয়ে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী ও লোডাররা লাগেজ চুরির সুযোগ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ কারণে উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ খালাস, ট্রলিতে তোলা, র‍্যাম্প এলাকা অতিক্রম করে ব্যাগেজ বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া উচ্চমানের সিসিটিভির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। এসব দৃশ্য অ্যারাইভাল লাউঞ্জের বড় পর্দায় যাত্রীদের সামনে সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া নিরাপত্তা বা তল্লাশির প্রয়োজনে কাস্টমস বা কোনো নিরাপত্তা সংস্থা যাত্রীর লাগেজ খুললে বা পরীক্ষা করলে সেটিও যাত্রীর সামনে ক্যামেরায় সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্বচ্ছ নিয়োগে দুদকের নজরদারির দাবি

বিমানবন্দর কর্মীদের নিয়োগে দুর্নীতির বিষয়টিও আইনি নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ঘুষ বা দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের কাছ থেকে সততা ও নিষ্ঠা আশা করা যায় না। অবৈধভাবে দেওয়া ঘুষের টাকা তুলতে গিয়ে এ ধরনের কর্মীরা যাত্রীদের লাগেজ কাটা ও মূল্যবান মালামাল লুটের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়েন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এ কারণে বিমানবন্দরের লোডার, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগে ঘুষ ও অনিয়ম বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের সক্রিয় প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি এবং মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ কাঠামো বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

১০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ

আইনি নোটিশে আগামী ১০ দিনের মধ্যে দেশের সব বিমানবন্দরে লাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের লাইভ সিসিটিভি সম্প্রচার চালু, প্রকাশ্যে লাগেজ তল্লাশি নিশ্চিত এবং দুদকের মাধ্যমে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অন্যথায় সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি সুরক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন (PIL) দায়ের করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।