আলোচিত ৩০ মামলার আসামি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজার পলায়ন ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গাজীপুর থেকে নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে তিনি পালিয়েছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
তাঁতীবাজারে থামে প্রিজন ভ্যান
পুলিশ কমিশনার জানান, ২৯ জন আসামিকে নিয়ে ঢাকা জেলা জজ কোর্ট থেকে স্কট পার্টির প্রিজন ভ্যানটি রওনা হয়। পরে তাঁতীবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে ভ্যানটি থামে।
এ সময় স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর বিশ্বাস চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজন ভ্যানের চাবি নেন। এরপর তিনি আসামি পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে বের করে সামনের দিকে নিয়ে যান।
খাইরুল বাশার প্রিজন ভ্যানের চালকের আসনের পাশে বসেন। এ সময় পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর প্রিজন ভ্যানে ওঠেননি। পরে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেট কারে করে পিচ্চি রাজা সেখান থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনা সাজানোর অভিযোগ
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এসআই প্রবীর মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনাস্থলে এসে প্রিজন ভ্যানে ওঠেন। এরপর স্কট পার্টির সদস্যদের নিয়ে এজাহারে বর্ণিত ঘটনাটি সাজানো হয়।
বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহের পর পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশ কমিশনার।
তিনি জানান, নায়েক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে (৩০) আট দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাঁর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
তাদের মধ্যে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিনজনকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন:







