সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে তার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
রবিবার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে সাক্ষাৎ করেন মিশন আচার্য ও প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে মিশনের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন রাশেদ খাঁন।
রবিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন জানান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফর শেষে মিশন আচার্যকে সাথে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে মিশনের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন মন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রীকে দেয়া রাশেদ খাঁনের চিঠিতেও মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার এ প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিশন আচার্য জন্মের পর থেকেই ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি সেখানে ভাড়া বাসায় থাকছেন।
রাশেদ খাঁন জানান, ছোটবেলা থেকেই পিতৃহীন মিশন আচার্যকে তার মা কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন এবং চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।
চিঠিতে মিশনের বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করে বিধি অনুযায়ী নিয়োগপত্র দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
এর আগে মিশন আচার্য জানিয়েছিলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং উপজেলা পর্যায়ে ১৭তম স্থান অর্জন করেন। মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হলেও ১৮০ জনকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়। বাকি দুজনের একজনের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় নিয়োগ পাননি এবং অন্যজন তিনি নিজে।
মিশনের অভিযোগ, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে তার নামে কোনো স্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। এ কারণেই তাকে নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি।
মিশন জানান, তার নিজের কোনো স্থায়ী বসতভিটা নেই। তার বাবা বহু বছর আগে পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ায় বাবার ঠিকানাও ব্যবহার করতে পারেননি। এরপর থেকে তিনি মায়ের সাথে ঝিনাইদহের কলাবাগান এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। তার জন্মও ওই এলাকায় এবং জন্মের পর থেকে সেখানেই বসবাস করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের পর নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ায় দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটতে যাচ্ছে মিশন আচার্যের। এখন নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:







