রবিবার

৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতিতে উঠতে পারে বাংলাদেশ: রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৬

আপডেট: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৭

শেয়ার

২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতিতে উঠতে পারে বাংলাদেশ: রাষ্ট্রদূত
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশকে এখন আর কেবল দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।

রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনের কর্ম-অধিবেশনে বক্তব্য দেন তিনি।

মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতির একটি। ২০৩০ সালের মধ্যেই দেশটি বিশ্বের শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির তালিকায় স্থান করে নিতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এই পর্যায়ে এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ, রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকিসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে আরও উচ্চাভিলাষী সম্পর্ক চায় ইইউ

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, এভরিথিং বাট আর্মস বা অস্ত্র ছাড়া সবকিছু বাণিজ্য অগ্রাধিকার সুবিধার মাধ্যমে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে ইইউর অংশীদারত্ব রয়েছে। তবে এখন আর পুরোনো ধরনের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা সম্ভব নয়। ইইউ বাংলাদেশের সঙ্গে আরও উচ্চাভিলাষী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।

এলডিসি থেকে বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। এলডিসি উত্তরণ পুরোপুরি শেষ করেনি, এমন কোনো দেশের সঙ্গে ইইউর পক্ষ থেকে এ ধরনের বাণিজ্য প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম বলেও উল্লেখ করেন মাইকেল মিলার।

ব্যবসায় সমান সুযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর গুরুত্ব

বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য সমান সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। ভূ-রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের চাপ মোকাবিলায় শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। সংস্কার কার্যক্রম সফলভাবে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন।