শুক্রবার

২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চার মদের দোকান সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০৬

শেয়ার

সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের চার মদের দোকান সিলগালা
ছবি সংগৃহীত

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছে যৌথ তদন্ত দল। অনুমোদিত সীমার বাইরে গোপন গুদামে শুল্কমুক্ত মদ মজুত রাখার অভিযোগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে এ অভিযান চালানো হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি-১) যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অভিযান চলে। এতে ডিপ্লোম্যাটিক ওয়্যারহাউসটির কার্যক্রমে গুরুতর অসংগতি শনাক্ত করা হয়।

অনুমোদিত দুটি, পাওয়া যায় চার ওয়্যারহাউস

এনবিআর জানায়, টস বন্ডের নথিভুক্ত ও ঘোষিত অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের সংখ্যা ছিল দুটি। তবে সরেজমিন অভিযানে চারটি গুদামে পণ্য মজুতের তথ্য পাওয়া যায়।

বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলা বা খোলাবাজারে বিক্রির আশঙ্কা রোধ এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে দুটি বৈধসহ চারটি ওয়্যারহাউসই তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টস বন্ড বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহের লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শুল্কমুক্ত মদ খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখছিল এনবিআর।

নুর ইসলাম ও পরিবারের আর্থিক তথ্য পর্যালোচনা

এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট কানাডা থেকে নুর ইসলাম ও তার পরিবারের আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

সেখানে নুর ইসলাম, তার স্ত্রী শীলা ইসলাম এবং মেয়ে তাসনিম ইসলামের কানাডার নাগরিকত্ব ও অন্তত চারটি কোম্পানির মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য দেশের কর নথিতে গোপন রাখা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাদের ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আনার তথ্যও পাওয়া গেছে।

সালমানের সাম্প্রতিক বিতর্কের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযান সালমান মুক্তাদিরের সাম্প্রতিক বিতর্কের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। সিআইসি ও আয়কর গোয়েন্দার কর্মকর্তাদের মতে, নুর ইসলামের ব্যবসা ও কর ফাঁকির বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অনেক আগে থেকেই অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিল।

তবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার পর সালমান মুক্তাদির লাইভে এসে রাজনৈতিক মহলের চাঁদাবাজিকে দায়ী করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেন। এরপর পরিবারের ওপর নজরদারি ও সার্বিক প্রক্রিয়ার গতি কিছুটা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নিউ গিনি হামলার মামলায় সাতজন গ্রেপ্তার

নিউ গিনি প্রোপার্টিজ এলাকায় হামলার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার দায়ের করা জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর মধ্যে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এর পরদিনই তার শ্বশুরের প্রতিষ্ঠানের চারটি ওয়্যারহাউসে যৌথ অভিযান চালিয়ে সেগুলো সিলগালা করা হয়।