শুক্রবার

২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

সর্বশেষ
এয়ার এশিয়ার সরাসরি ফ্লাইটে পেনাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার ৮০ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেয়া হবে না: মীর শাহে আলম পুলিশ হেফাজত থেকে আ. লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় আসামি আবু সিদ্দীকসহ গ্রেপ্তার ৯ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড ফারহান-ইমনের গোলেও ইন্দোনেশিয়ার কাছে বড় হার বাংলাদেশের ফেনীর তিন উপজেলায় দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন চাকরির নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও প্রতি বৈষম্য করা হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এয়ার এশিয়ার সরাসরি ফ্লাইটে পেনাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:০১

শেয়ার

এয়ার এশিয়ার সরাসরি ফ্লাইটে পেনাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কক্সবাজার
ছবি সংগৃহীত

কক্সবাজার ও মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে মালয়েশিয়ার সুলভ মূল্যের বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়া। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই বিমান যোগাযোগ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, এয়ার এশিয়া কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রস্তাবিত ফ্লাইটে কক্সবাজারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

চলতি মাসে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতির মধ্যেই এ উদ্যোগের কথা জানানো হলো। কক্সবাজার থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সরাসরি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

মন্ত্রী জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কাঠমান্ডু ও কুনমিং রুটেও সরাসরি ফ্লাইটের পরিকল্পনা

কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন ও বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান রশিদুজ্জামান মিল্লাত। স্থলবেষ্টিত নগরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজার-কাঠমান্ডু-কক্সবাজার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গে কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ চলছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের পর্যটকদের আকৃষ্ট করাই এর মূল লক্ষ্য বলে জানান মন্ত্রী।

কক্সবাজারের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও পর্যটক আকর্ষণের সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এসব রুটের মাধ্যমে কক্সবাজারকে দেশীয় পর্যটকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এয়ার এশিয়া কবে থেকে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে কিংবা সপ্তাহে কতটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি মন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ চালুর লক্ষ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সকে যুক্ত করার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

নতুন টার্মিনালে অভ্যন্তরীণ যাত্রীসেবা শুরু

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতি শেষে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত যাত্রী টার্মিনাল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে।

বেবিচকের সদস্য (অপারেশন্স অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান জানান, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নতুন টার্মিনালে প্রাথমিকভাবে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের সেবা দেওয়া হবে। পরে এটি সমন্বিত ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমন নতুন টার্মিনাল দিয়ে হবে। অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের আগমন হবে বর্তমান টার্মিনাল দিয়ে। অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীরা নতুন টার্মিনালে চেক-ইনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পুরোনো টার্মিনালে গিয়ে বিমানে উঠবেন।

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালটি প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন সুবিধা, লাগেজ সরবরাহের বেল্ট, নিরাপত্তা তল্লাশি সরঞ্জাম, লিফট, এসকেলেটর ও বোর্ডিং ব্রিজসহ আধুনিক যাত্রীসেবা সুবিধা রয়েছে।

টার্মিনাল সম্প্রসারণের ফলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বেবিচক রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করেছে।