বৃহস্পতিবার

১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

বিদেশযাত্রার স্বপ্নে বিএমইটির দ্বারে ভোগান্তি!

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫৯

শেয়ার

বিদেশযাত্রার স্বপ্নে বিএমইটির দ্বারে ভোগান্তি!
ছবি সংগৃহীত

বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে আসে হাজারো মানুষ। কারও হাতে চাকরির কাগজ, কারও হাতে ভিসা; আবার কারও চোখে পরিবারের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন।

কিন্তু, স্বপ্নের সেই পথে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো—বিএমইটির দরজায় এসে পোহাতে হচ্ছে একের পর এক ভোগান্তি। দীর্ঘ অপেক্ষা, হয়রানি আর নানা জটিলতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে অনেকের বিদেশযাত্রা।

ফাইল আটকে থাকা ও ফি বাড়ার শঙ্কা

ভুক্তভোগী এক ব্যক্তির অভিযোগ, দিনের পর দিন ফাইল পড়ে থাকলেও জানানো হচ্ছে না নির্দিষ্ট কোনো কারণ। তার ওপর নির্ধারিত ফি বাড়ার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে বাড়ছে বিদেশগামী যাত্রীদের অনিশ্চয়তা।

সার্ভার জটিলতায় দীর্ঘসূত্রতা

অন্যদিকে বিএমইটির অনলাইন সার্ভার নিয়েও জমছে অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা। অভিযোগ রয়েছে, সার্ভারে সমস্যার কথা বলে দিনের পর দিন ঘোরানো হচ্ছে বিএমইটির দরজায়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও মিলছে না কোনো সমাধান। যার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলছে।

দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত ফি আদায়

একই সঙ্গে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটিতে দালালচক্রটাও বেশ শক্তিশালী বলেই উঠে আসে বাংলা এডিশনের কাছে। জানা যায়, বিএমইটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে ম্যানপাওয়ারের জন্য আবেদন করে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করার পরও বিএমইটি থেকে জানানো হয়, ব্যক্তিগতভাবে নয়; বরং রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

যার কারণে ৫ হাজার টাকা দিয়ে অনলাইনে আবেদন করা সত্ত্বেও আবারও নতুন করে এজেন্সির কাছে গুনতে হচ্ছে ৩ হাজার টাকা।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এখানেই, অনলাইনে যদি ম্যানপাওয়ারের জন্য আবেদন করার সুযোগই থাকে, তাহলে এজেন্সির দ্বারস্থ কেন? তবে কি এর আড়ালে সক্রিয় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দালালচক্রের গভীর কোনো যোগসূত্র?

ভিসা যাচাইয়ে প্রশ্ন ও অব্যবস্থাপনা

সাধারণ মানুষদের অভিযোগ আর ভোগান্তির যেন শেষ নেই। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে ভোগান্তির অভিজ্ঞতাও সামনে আসে ভিন্ন ভিন্ন। ভুক্তভোগী এক প্রবাসীর অভিযোগ, বিএমইটিতে ওয়ার্ক ভিসার যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে কম্বোডিয়ায় যাওয়ার পরে জানা যায়, সেটি ট্যুরিস্ট ভোগান্তি।

এখানেই তৈরি হয় বিএমইটিকে ঘিরে অব্যবস্থাপনার এক দীর্ঘ উপাখ্যান। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ধারা ৫ অনুযায়ী, পর্যটক হিসেবে বিদেশগামীদের জন্য বহির্গমন ছাড়পত্র প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ, ট্যুরিস্ট ভিসায় সাধারণত BMET ম্যানপাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

কিন্তু প্রশ্নের শানিত তীর এখানেই। ভুক্তভোগী ব্যক্তির ভিসা যদি ট্যুরিস্ট হয়ে থাকে, তাহলে দেশে ম্যানপাওয়ারের প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হলো? আর যদি তা ওয়ার্ক ভিসাই হয়ে থাকে, তাহলে কম্বোডিয়ায় তার ভিসায় ট্যুরিস্টের সিল কেনই বা দেয়া হলো? দায়টা কি রিক্রুটিং এজেন্সির, নাকি বিএমইটি কর্তৃপক্ষের—সেটাই এখন সময়ের বড় প্রশ্ন।

এছাড়াও সার্বিয়ায় যাওয়ার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রাপ্ত কিছু ভিসা বিমানবন্দরে ভুয়া প্রমাণিত হয় বলে জানা যায়। অথচ বিদেশযাত্রার আগে এসব ভিসা যাচাই করে ছাড়পত্র দিয়েছিল বিএমইটি। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সার্বিয়ার ছাড়পত্র বন্ধ করে দেয়া হয়। যার কারণে বৈধ ভিসাধারীরাও আটকে পড়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

প্রশ্ন উঠছে, ভিসাগুলো যদি ভুয়াই হয়ে থাকে, তাহলে বিএমইটির যাচাই-বাছাইয়ের পর কীভাবে সেসব ছাড়পত্র পেল? আর যদি যাচাইয়ে ত্রুটি থেকেই থাকে, সেই দায়ই বা নেবে কে?

আস্থার সংকটে বিদেশযাত্রা

বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বিএমইটির দ্বারে আসা মানুষের কাছে এই প্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল আস্থার শেষ ঠিকানা। অথচ অভিযোগের পর অভিযোগে সেই আস্থার জায়গাতেই যেন জমছে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। ফাইলের দীর্ঘ অপেক্ষা থেকে সার্ভার জটিলতা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য থেকে ভিসা যাচাইয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে বিদেশযাত্রার স্বপ্নেই যেন তৈরি হচ্ছে নতুন শঙ্কা।