বৃহস্পতিবার

১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩

রূপপুরে সেফটি ভালভের জট খুলল, পরীক্ষা সফল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০৫

শেয়ার

রূপপুরে সেফটি ভালভের জট খুলল, পরীক্ষা সফল
ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় এক মাসের অনিশ্চয়তার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের সেফটি ভালভের উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে শেষ হওয়া এ পরীক্ষাকে কমিশনিং প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ইউনিটের প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ বা সেফটি ভালভের ১৯ মেগাপ্যাসকেল চাপে পরীক্ষা মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হয়ে বুধবার সফলভাবে শেষ হয়। মূল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ—দুই জায়গা থেকেই পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়।

নিয়ন্ত্রণ ভালভগুলোর কার্যকারিতা সন্তোষজনক পাওয়ার পর মূল সেফটি ভালভের প্রতিক্রিয়া, খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম এবং সতর্কসংকেত পর্যবেক্ষণ করা হয়।

প্রকল্পের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা শর্ত মেনেই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পরীক্ষার আগে ও চলাকালে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা ও বিকিরণ নিরাপত্তাসহ সব ধরনের নিরাপত্তা বিষয় যাচাই করা হয়।

ওই কর্মকর্তা জানান, রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ বজায় রাখার সঙ্গে সেফটি ভালভের পরীক্ষা সরাসরি সম্পৃক্ত। এ কারণে পরীক্ষাটি কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সময়সূচি বজায় রাখার চেষ্টা থাকলেও নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে আরেকটি পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনিং দল প্রতিটি পর্যায় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে এগোচ্ছে।

সেফটি ভালভের ত্রুটিতে পিছিয়ে যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ

এর আগে সেফটি ভালভের ত্রুটি নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের শুরুতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, এই ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। তবে তখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।

চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করার পর সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চুল্লির দুটি সেফটি ভালভ কাজ না করায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।

পরে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি মন্ত্রী জানান, ওই মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না এবং কবে তা সম্ভব হবে, সেটিও নিশ্চিত নয়। এ সময় প্রকল্প এলাকায় একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।

প্রথম ইউনিটের বিলম্বের প্রভাব দ্বিতীয় ইউনিটের ওপরও পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। দ্বিতীয় ইউনিট এমনিতেই নির্ধারিত সময়সূচির চেয়ে পিছিয়ে ছিল।

রুশ বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় সমাধান

পরিস্থিতি সামাল দিতে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার পর ২২ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি রুশ বিশেষজ্ঞ দল রূপপুরে পৌঁছায়। বাংলাদেশি ও রুশ প্রকৌশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত সেফটি ভালভের সমস্যার সমাধান হয়।

এর আগে প্রথম ইউনিট চালুর লক্ষ্যে রাশিয়ার পরমাণু প্রকৌশল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্বিতীয় ইউনিট থেকে একটি ভালভ প্রথম ইউনিটে স্থানান্তরের প্রস্তাবও দিয়েছিল।

দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি আসছে

এদিকে রূপপুর প্রকল্পে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট সাতটি বিশেষ ফ্লাইটে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের সব জ্বালানি দেশে আনার কথা রয়েছে।