বুধবার

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৪

শেয়ার

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রম শুরু
ছবি সংগৃহীত

উত্তরাঞ্চলের বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের প্রাথমিক প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরুর আগে কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিরূপণে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রায় ২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পূরণে বর্তমান সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে বিশ্বমানের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হবে।

মহাপরিকল্পনায় যেসব কাজ থাকছে

প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার এবং ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ২২৪ কিলোমিটার শক্তিশালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের ওপর পাকা সড়ক নির্মাণের কথা রয়েছে। নদীশাসনের মাধ্যমে নদীসংলগ্ন প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন জমি পুনরুদ্ধার করে কৃষি ও শিল্পকাজে ব্যবহারের পথ তৈরির বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য উত্তরাঞ্চলের স্থায়ী বন্যা ও নদীভাঙন সমস্যার টেকসই সমাধান এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সুযোগ তৈরি করা।

বাঁধ ও যোগাযোগ নিয়ে যা বললেন বাউবো মহাপরিচালক

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেন, সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা নদী রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংযোগ ও সেচব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ২২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপর নির্মিত সড়ক উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আনবে। বর্ষাকালে নদীবেষ্টিত যেসব এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত, সেখানে এই বাঁধ একই সঙ্গে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ড্রেজিং ও পানিপ্রবাহ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত

নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে ড্রেজিং কার্যক্রম সফল করা সম্ভব হবে।

বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, উজান-ভাটির পানিপ্রবাহ ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।

সমীক্ষা প্রস্তাব নিয়ে মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা বিভাগের বক্তব্য

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে দ্রুত বাস্তবে রূপ দিতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ প্রতিটি কম্পোনেন্টের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করা হবে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি অনুমোদিত হলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে পরবর্তী ধাপে এগোনো সম্ভব হবে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারের নেওয়া রূপরেখা ও সংকল্পের কথা তুলে ধরেন। এরপর প্রকল্পটির কাজে গতি এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার মতো জেলার অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায় নদীভাঙনে এসব এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।

মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পুনরুদ্ধার করা ১৭০ বর্গকিলোমিটার জমি কৃষি ও স্থানীয় শিল্পে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।