বুধবার

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

সংকট না থাকলেও বাড়তি দামে এলপিজি, তবু মিলছে না সিলিন্ডার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০৬

শেয়ার

সংকট না থাকলেও বাড়তি দামে এলপিজি, তবু মিলছে না সিলিন্ডার
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর বাজারে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও অধিকাংশ দোকানে তা ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যেও প্রয়োজন অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

অয়ন নামে এক ক্রেতা জানান, তিনি দোকানিকে ১ হাজার ৭৫০ টাকা দেওয়ার কথা বললেও দোকানি বর্তমানে গ্যাস নেই জানিয়ে ১ হাজার ৯৫০ টাকা দাবি করেন। দোকানে আরও দুই-তিনজন ক্রেতা অপেক্ষা করছেন বলেও তাকে জানানো হয়। তিনি সিলিন্ডারটি না নিলে অন্য ক্রেতা নিয়ে যাবেন বলেও দোকানি জানান।

শুধু গৃহস্থালি ব্যবহারকারীরাই নন, বাড়তি দামের কারণে চাপে পড়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরাও। চা দোকানি আরিফ মঙ্গলবার সকালে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৫০ টাকা দিয়ে কিনেছেন। তার দাবি, বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দোকানের জন্য বাড়তি দামেই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এতে আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।

আরিফ বলেন, তাদেরও চলতে কষ্ট হচ্ছে। চায়ের দাম বাড়াতে পারছেন না। দাম বাড়ালে ক্রেতারা আপত্তি করেন। পাঁচ টাকা রং চা ও ১০ টাকা দুধ চায়ের দামে ব্যবসা চালানো কঠিন বলেও জানান তিনি।

নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩১৫ থেকে ৫১৫ টাকা বেশি

সেপ্টেম্বর মাসের জন্য বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে রাজধানীর অধিকাংশ দোকানে এর চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। ১২ কেজির সিলিন্ডার প্রায় ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়, ৩৫ কেজির সিলিন্ডার প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার সাড়ে ৬ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাড়তি দাম দেওয়ার পরও অনেক সময় প্রয়োজনীয় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। একজন ক্রেতা জানান, তিনি যে ডিলারের কাছেই যাচ্ছেন, সেখানেই সিলিন্ডার নেই বলে জানানো হচ্ছে। রান্নার জন্য এলপিজির বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে দোকানিদের দাবি, তাদেরও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে তাদের ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। ফলে বিইআরসির নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকা দরে বিক্রি করলে লোকসান হবে বলে জানান তারা।

একজন বিক্রেতা বলেন, তারা ১ হাজার ৬৫০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনছেন, অথচ সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। বিইআরসির নির্ধারিত দামের সঙ্গে কোম্পানির দামেরও পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে তার দাবি।

চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ার দাবি ব্যবসায়ীদের

এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কোঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নেতার দাবি, অধিকাংশ কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করতে পারছে না। এতে বাজারে সরবরাহ নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

সংগঠনটির ট্রেজারার আবু তাহের খোরশেদ বলেন, পাঁচ দিন, সাত দিন, এমনকি আট দিন অপেক্ষা করে রেশনিংয়ের মাধ্যমে তাদের পণ্য আনতে হয়। অনেক কোম্পানির কাছে সম্পূর্ণভাবে গ্যাস না থাকায় বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি ভোক্তাদেরও জানানো হয়েছে। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিষয়টি মনিটরিং করা হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে।

তবে বিক্রেতাদের দাবি, বাজারে এলপিজির সংকট নেই। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিজ্ঞতায় নির্ধারিত দামে তো নয়ই, বাড়তি দাম দিয়েও অনেক সময় সিলিন্ডার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সমাধানের আগে সমস্যার জায়গা চিহ্নিত করার তাগিদ

এলপিজির বাজারে সরবরাহ ও দামের এই পরিস্থিতির কারণ চিহ্নিত করে সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তার মতে, এলপিজির বাজার দেখভালের জন্য সরকারের একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী দাম কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব।

এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরেও প্রায় কাছাকাছি পরিমাণ এলপিজি আমদানি হয়েছে। ফলে আমদানির পরিমাণের সঙ্গে বাজারে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি এবং চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়টিও সামনে এসেছে।