মঙ্গলবার

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

সর্বশেষ
ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহায়তা জোরদারে আইনমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ দুর্নীতির অভিযোগ কী আছে আসিফ মাহমুদের ভাগ্যে? জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে দূরদর্শী ও দিকনির্দেশনামূলক বললেন রাষ্ট্রপতি বিরোধীদলসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করে সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিউইয়র্ক টাইমসের নির্বাহী কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা, শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রেপ্তার মিরপুরে তিন ভাইয়ের বাহিনী, তিন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ব্যয় বাড়ল ৮৪৭ কোটি

সালমান শাহ হত্যা মামলায় প্রতিবেদন দাখিল পেছাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:০০

শেয়ার

সালমান শাহ হত্যা মামলায় প্রতিবেদন দাখিল পেছাল
ছবি সংগৃহীত

চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। এ কারণে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা

গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরে গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরদিন ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

এজাহারে যে অভিযোগ

মামলার এজাহারে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরানশাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হয়েছে বলে জানান। পরে তারা দ্রুত বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে আছেন। কয়েকজন বহিরাগত নারী তখন তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান।

পরে তাকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, সালমানের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দিয়েছিলেন। সেখানে রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন করা হয়।

সালমানের পিতার মৃত্যুর পর তার বোনের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ আলমগীর মামলাটি পরিচালনা করছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে, প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।



আরও পড়ুন: