মঙ্গলবার

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

বাংলাদেশিদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

বাংলা এডিশন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪৩

শেয়ার

বাংলাদেশিদের জন্য খুলল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার
ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় চার বছর বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশিদের জন্য আবারও খুলেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন এনএসকে ট্রেড সিটির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র বাংলাদেশ হাইকমিশন সত্যায়ন করার মধ্য দিয়ে শ্রমবাজারটি ফের চালু হয়েছে।

হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেডের অধীনে ওই চাহিদাপত্রের সত্যায়ন দেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

দীর্ঘ আলোচনা ও প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর

শ্রমবাজারটি পুনরায় চালু করতে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক, দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হলেও দীর্ঘ সময় কোনো অগ্রগতি হয়নি। এতে বাজারটি ফের চালু হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যান। সফরকালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের কোনো পক্ষ থেকেই শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা

মালয়েশিয়া সরকার প্রায় এক মাস আগে বাংলাদেশসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া ও ধাপ প্রকাশ করেছে। তবে বাংলাদেশ থেকে কোন প্রক্রিয়ায়, কার মাধ্যমে এবং কত টাকা খরচে কর্মীরা মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি।

এ অবস্থায় কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি, দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগী সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা, চাকরির আশ্বাস এবং দ্রুত মালয়েশিয়া পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। এতে প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ছে।

এর আগে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন খরচের কয়েকগুণ বেশি অর্থ দিয়ে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যেতে হয়েছে। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং কম খরচে অভিবাসন নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির কথা বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নজর

এবারের শ্রমবাজার কতটা স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে পরিচালিত হবে, তার ওপর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে। অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের দালালচক্রের হাত থেকে রক্ষা করাই এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।