সোমবার

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

৭ মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজার শিশু আসল কারণ কী?

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৫৭

আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৫৮

শেয়ার

৭ মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজার শিশু আসল কারণ কী?
ছবি সংগৃহীত

দেশে প্রতিনিয়তই সামনে আসে শিশু নিখোঁজের সংবাদ। কিছুদিন আগেই শিশু নিখোঁজের এই আলোচনা ছিলো টক অব দ্য কান্ট্রি। আলোচনায় আসে, সন্তানের খোঁজে উদ্বিগ্ন পরিবার ছুটছে থানায়, হচ্ছে জিডি। স্বজনদের চোখে তখন একটাই আকুতি—যেভাবেই হোক, ফিরে আসুক হারিয়ে যাওয়া সন্তান। কিন্তু সেই সন্তান ফিরে এলেও, থানা থেকে কি নিষ্পত্তি করা হয় সেই জিডি?

নাকি বাস্তবের ঘরে ফিরে আসা শিশুটি, সরকারি নথির পাতায় থেকে যায় নিখোঁজের তালিকাতেই? এবার এই বাস্তবতারই এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে বাংলা এডিশনের অনুসন্ধানে।

পুলিশের তথ্যে সাত মাসে পনেরো হাজারের বেশি জিডি

পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শিশু নিখোঁজের ঘটনায় সারা দেশে ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশু উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু এখনো সন্ধান মেলেনি ২ হাজার ৩৮ শিশুর।

হাজার হাজার শিশু নিখোঁজের এই হিসাব সামনে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—একটি শিশু নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশ আসলে কতটা তৎপর? এই প্রশ্নের উত্তর জানতেই ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সরেজমিনে উপস্থিত হয় টিম বাংলা এডিশন।

কথা হয় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আখতার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কোনো শিশু নিখোঁজের খবর সামনে এলেই তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়।

জিডি নিষ্পত্তিতে অভিভাবকদের উদাসীনতা

তবে এখানেই সামনে আসে ভিন্ন আরেক বাস্তবতা। সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিশু নিখোঁজের পর জিডি করতে অভিভাবকদের মধ্যে যে তৎপরতা দেখা যায়, শিশু উদ্ধার হয়ে বাড়ি ফেরার পর সেই জিডি নিষ্পত্তির বিষয়ে তাদের মধ্যে দেখা যায় ঠিক ততটাই উদাসীনতা। ফলে বাস্তবের ঘরে ফিরে এলেও, থানার নথিতে থেকে যায় তার নিখোঁজের তথ্য।

বাস্তবে শিশু ঘরে ফিরেছে, কিন্তু কাগজে-কলমে জিডিটি রয়ে গেছে এক অদৃশ্য জগতে। পুলিশের দাবি এমন অসম্পন্ন জিডিই নিখোঁজ শিশুর সংখ্যা নিয়ে তৈরি করে বিভ্রান্তি।

দক্ষিণখান থানায় অনুসন্ধান

প্রশাসনের দেয়া এই তথ্যকে সামনে রেখে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে বাংলা এডিশনের অনুসন্ধানী দল উপস্থিত হয় দক্ষিণখান থানায়। সেখানে গিয়ে সামনে আসে আরও কিছু চোখ ধাঁধানো তথ্য।

অভিভাবকদের দায়িত্বহীনতার কারণে প্রেমঘটিত বিষয়ে একই কিশোরীর একাধিকবার পালানো নিয়ে পুলিশকে বারবার অনুসন্ধান চালাতে হয় বলেও জানা যায় সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে। অপরদিকে কিশোরী ফিরে আসার পরও থানা থেকে জিডি প্রত্যাহার করা হয় না বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।

ফালাকি আক্তারের জিডি ও বাবার বক্তব্য

ঘটনাপ্রবাহের কাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা উন্মোচনে দক্ষিণখান থানায় হারিয়ে যাওয়া ফালাকি আক্তার নামে এক কিশোরীর জিডির তথ্যকে সামনে রেখে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে টিম বাংলা এডিশন। কথা বলার পর প্রশাসনের দেয়া বক্তব্যের সত্যতাও উঠে আসে মেয়েটির বাবার বক্তব্যে।

মেয়েটির বাবা জানান, ফালাকি একটি ছেলের সঙ্গে চলে যাওয়ার পর কিছু দিনের মধ্যেই ওই ছেলের সাথে তার বিয়ে হয় বলে জানতে পারে তারা।

বর্তমানে মেয়েটি কোথায় আছে, কেমন আছে—সবই জানে পরিবার। তবুও কেন থানায় করা জিডিটি এখনো নিষ্পত্তি করেননি—এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, জিডি প্রত্যাহার করতে হয়—এমন কিছু জানা ছিল না তার।

সন্তান ফিরে আসে ঘরে, কিন্তু নথির পাতায় থেকে যায় নিখোঁজের ছায়া। আর এমন অসম্পন্ন জিডিই বাস্তবতা আর সরকারি পরিসংখ্যানের মাঝে তৈরি করছে এক অদৃশ্য দূরত্ব। তাই নিখোঁজের হিসাবের পাশাপাশি, ফিরে আসা প্রতিটি শিশুর তথ্যও যথাযথভাবে নথিতে ফেরানো জরুরি। আর এজন্য শিশু ফিরে এলে অভিভাবকদের সংশ্লিষ্ট থানায় গিয়ে জিডিটি নিষ্পত্তি করা এখন সময়ের দাবি।