সোমবার

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০৮

শেয়ার

রূপপুরের জ্বালানিবাহী বিমানকে আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান
ছবি সংগৃহীত

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি বহনকারী একটি কার্গো বিমান ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও অনুমতি না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে আনা যায়নি। পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি, তা এখনো জানা যায়নি।

রাশিয়া নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর তারিখ প্রস্তাব করেছে বলেও জানান তিনি।

বিমানবন্দরে প্রস্তুতির পর স্থগিত হয় পরিবহন

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, জ্বালানি পরিবহনের জন্য বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। পরে রুশ পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সমন্বয় কর্মকর্তা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না থাকার বিষয়টি জানান। এরপর পরিবহন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

তবে কোন দেশ আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, সে বিষয়ে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি। বিষয়টি জানতে রোসাটমের কাছে ই-মেইল করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

দুটি ইউনিটে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

কেন্দ্রটিতে তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

২০২৩ সালে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি আসে

এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম জ্বালানির প্রথম চালান বাংলাদেশে আসে। রোসাটমের নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে তৈরি ১৬৪টি নতুন জ্বালানি সংবলিত ওই চালান রাশিয়ার একটি কার্গো বিমানে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।

পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষভাবে সুরক্ষিত কনটেইনারে করে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় এসব জ্বালানি গ্রিন করিডোর দিয়ে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।