সোমবার

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩ আশ্বিন, ১৪৩৩

সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৫

শেয়ার

সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’
ছবি সংগৃহীত

সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ বেশ কিছু অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আসতে পারে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংশোধনে তাদের অগ্রাধিকার হলো ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। পাশাপাশি নির্বাচন ইশতেহার অনুযায়ী ম্যান্ডেট পাওয়া বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’, যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রস্তাবনায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে অনুচ্ছেদ ৮-এ যুক্ত করেছিলেন, তা ফিরিয়ে আনা হবে। এটি তাদের ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি।

সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়েছে

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন জার্নালিস্ট ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে তফসিল এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ে বিস্তারিত মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। অনেকেই লিখিত প্রস্তাব দেবেন।

এসব প্রস্তাব ও আলোচনা রিপোর্ট ও পুস্তিকা আকারে প্রণয়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

বিরোধী দলকে অংশ নেওয়ার আহ্বান

সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্পাদকদের অনেকেই বিরোধী দলের সদস্যদের অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন। কমিটিও এর সঙ্গে একমত। বিরোধী দলগুলোকে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এখনো জানানো হচ্ছে। তারা কমিটিতে যোগ দিলে স্বাগত জানানো হবে।

বিভক্তি না রেখে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করতে চায় কমিটি বলেও জানান সালাউদ্দিন আহমদ।

গণভোটের প্রয়োজন হবে যেসব পরিবর্তনে

গণভোট প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী বাতিল হওয়ায় ১৪২ অনুচ্ছেদটি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

তিনি জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আসতে পারে। এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে অবশ্যই জনগণের গণভোটের প্রয়োজন হবে। বিল পাসের পর এই সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়েও প্রস্তাব

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষায় গণভোটের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যেন ভবিষ্যতের কোনো সংসদ সহজে বাতিল করতে না পারে, সে জন্য এ-সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলোতে সংশোধনী আনতেও গণভোটের প্রয়োজন হবে—এমন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার লক্ষ্য

সংবিধান সংশোধনের সময়সীমা সম্পর্কে কমিটির আহ্বায়ক জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন কমিটির রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপনের জোর প্রচেষ্টা চলছে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিল আসবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের বছরের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন হতে পারে।

এরপর বিলের ওপর আলোচনা ও সংশোধনী শেষে তা পাস হলে গণভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে বলে জানান তিনি।

সবশেষে গণমাধ্যম ও সম্পাদকদের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোকে সংবিধান সংশোধনের এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।