রবিবার

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চাঁদাবাজি নাকি জমিজমার বিরোধ সালমানের স্টুডিওতে হামলার নেপথ্যে কী?

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৫

শেয়ার

চাঁদাবাজি নাকি জমিজমার বিরোধ সালমানের স্টুডিওতে হামলার নেপথ্যে কী?
ছবি সংগৃহীত

গভীর রাতে হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে আসেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। তবে এবার তার লাইভ কোনো বিনোদন কিংবা বিজ্ঞাপনী বার্তা নিয়ে নয়; বরং এক রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা নিয়ে। একদিকে রয়েছে চাঁদাবাজির অভিযোগ, অন্যদিকে জমিজমা সংক্রান্ত ঝামেলার বিষয়।

যে স্টুডিওতে তৈরি হতো বিনোদনের গল্প, রাতের আঁধারে সেখানেই নেমে আসে এক দানবীয় তাণ্ডব—হামলা, ভাঙচুর আর নির্বিচারে লুটপাট। গভীর রাতে লাইভে এসে এমনই গুরুতর সব অভিযোগ করতে দেখা যায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরকে।

হামলার ঘটনা

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে, ঢাকার ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজ এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা চালায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি। হামলায় মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরসহ কর্মীদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ

এদিকে সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন; চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরেই তাঁর স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে, পরে তিনি আবার জানান, তার সাথে একক কোনো শত্রুতার জেরে এই হামলা চালানো হয়নি। বরং, ঘটনার ভেতর অন্য ঘটনা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন সালমান মুক্তাদির।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে দেশজুড়ে জন্ম নেয় নানা আলোচনা-সমালোচনার। এমনকি এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও জুলাইপন্থী অনেককেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মন্তব্য তুলে ধরতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের একটি পোস্টও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসে। যেখানে সালমান মুক্তাদিরকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে।

অন্যদিকে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকি ভট্টাচার্যকে এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের লাইভ ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে শেয়ার করে ‘জুলাইয়ের সহযোদ্ধা’ বলে তার পক্ষ নিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে পোস্টে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন পিনাকী। পাশাপাশি এই হামলার পেছনে চাঁদাবাজিকেই দায়ী করেন তিনি। এমনকি উত্তরা, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে চাঁদাবাজি বাড়ছে বলেও অভিযোগ উঠে আসে পোস্টে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

অপরদিকে, সালমান মুক্তাদিরের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রেস ব্রিফিং করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। সালমান এ ঘটনায় মামলা করেছেন কি না—এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপিকে সামগ্রিকভাবে চাঁদাবাজ দল বলা ঢালাও অভিযোগ হিসেবে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি হামলার ঘটনায় যার সম্পৃক্ততাই থাকুক, তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেস ব্রিফিংয়ের পরই সালমান মুক্তাদিরকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিওতে যুক্ত হতে দেখা যায়। যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ‘সালমান মামলা করেননি’—এমন বক্তব্যের জবাব দেন মুক্তাদির। তার দাবি, হামলার পর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করা হয়েছে। আর এই মামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তথ্য না থাকায় তাঁর সমালোচনাও করেন এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

পুলিশের ভিন্ন দাবি

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই উত্তপ্ততার মাঝেই সামনে আসে আরেক ভিন্ন ব্যাখ্যা। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাটি কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়; বরং জমিজমা কেন্দ্রিক দখল-বেদখল কিংবা দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য জানিয়েছে ডিএমপি পুলিশ। এ ঘটনায়, সবশেষ তথ্য অনুযায়ী চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানা যায়।

অপরদিকে জমিজমা নিয়ে বিরোধের এই বিষয়টির সত্যতা উঠে আসে নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের মালিক ও পরিচালকের বক্তব্যেও। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তাঁর সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে আসছিল।

চাঁদাবাজির অভিযোগ, নাকি জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের দখল-বেদখলের দ্বন্দ্ব—সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে রাতের আঁধারে ঘটে যাওয়া এই তাণ্ডব ঘিরে সামনে এসেছে দুই ভিন্ন বয়ান। তবে হামলা, ভাঙচুর আর লুটপাটের নেপথ্যের আসল কারণ কোনটি—তা এখনো তদন্তের পর্দাতেই ঢাকা। আর সেই পর্দা সরিয়ে প্রকৃত সত্য সামনে আসার অপেক্ষায় এখন দেশবাসী।



আরও পড়ুন: