২০১৩ সালের গেজেট থেকে বাদ পড়া অনধিক ৫ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সম্মিলিত জোটের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষকরা জানান, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ঘোষণার পর ২০১২ সালের ২৭ মে তারিখের আগে প্রতিষ্ঠিত, জমির দলিল সম্পন্ন এবং পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদন করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আওতায় আনার কথা ছিল। সে অনুযায়ী সারাদেশের বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয় জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হলেও প্রায় ৫ হাজার বিদ্যালয় শেষ পর্যন্ত বাদ পড়ে।
তাদের দাবি, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই শেষে এসব বিদ্যালয়ের তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে বিভিন্ন কারণে বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়ে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, তৎকালীন ১৩তম টাস্কফোর্স সভার সুপারিশের পর উপসচিব সরদার কেরামত আলীর একটি চিঠির কারণে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে তাদের বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোনো সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়াই তারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন। বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য নিজেদের অর্থে জমি কেনা, একাডেমিক ভবন নির্মাণ ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহসহ বিভিন্ন ব্যয়ও বহন করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিদ্যালয়ের জন্য জমি রেজিস্ট্রি দেওয়ার কথাও জানান তারা।
বছরের পর বছর অবস্থান কর্মসূচি
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষকরা ২০১৮ সালে ১৮ দিন, ২০১৯ সালে ৫৬ দিন, ২০২১ সালে ৭ দিন, ২০২২ সালে ২ দিন, ২০২৩ সালে ১৭ দিন এবং ২০২৪ সালে বিভিন্ন দফায় ৪৫ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। ২০২৫ সালেও বিভিন্ন সময়ে ৫৭ দিন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এর পরও দাবি পূরণ না হওয়ায় ২০২৬ সালে মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়করণের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেও তারা কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তারা। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।
কর্মসূচিতে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সম্মিলিত জোটের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:







