রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় কোনো সংসদ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের গাফিলতি পাওয়া গেলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। এ সময় তার সঙ্গে অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি এবং মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংরক্ষিত সংসদ সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌসী মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মামলা হয়েছে, আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে যারাই জড়িত পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর ও লুটপাটের আলামত
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঘটনাটি আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টায় ঘটানো সম্ভব নয়। ঘটনাস্থন পরিদর্শনে তার কাছে মনে হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের আলামত পাওয়া গেছে। ল্যাবের অনেক যন্ত্রপাতিও পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি জানান, এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারে একজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশের গাফিলতির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে
ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকার অভিযোগের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এটি প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। পুলিশ সময়মতো ঘটনাস্থলে এসেছিল কি না এবং কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এডিসি দারুসসালামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে শনিবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে কোনো পুলিশ সদস্যের অবহেলা বা গাফিলতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান কমিশনার।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কোনো দল বা মত দেখব না। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।’
মুখোশধারী দলের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রায় ২৫০ জনের একটি মুখোশধারী দল হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি লুট করে। পরে সেখানে একটি দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:







