শনিবার

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩

পরমাণু শক্তির বেসামরিক ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি

বাংলা এডিশন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:১০

শেয়ার

পরমাণু শক্তির বেসামরিক ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি
ছবি সংগৃহীত

পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

শনিবার বিএনপি মিডিয়া সেলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেকব হেলবার্গ চুক্তিতে সই করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতার যে প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, বর্তমান চুক্তিটি তারই ধারাবাহিকতা।

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে চুক্তি নিয়ে আলোচনা

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি পৌলোস মরিসন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। একই সময়ে বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।

মরিসন আরও জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক শক্তির বেসামরিক ব্যবহারের বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে।

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম চালানে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু শক্তির বেসামরিক ব্যবহার নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম জ্বালানি পৌঁছানো নিয়ে সাময়িক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার নতুন এই চালান ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে আকাশপথের ছাড়পত্র না পাওয়ায় সেটি পাঠানো সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালান গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটমের লিয়াজোঁ অফিসার সংশ্লিষ্ট এলাকার আকাশপথ উন্মুক্ত না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করায় ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়েছে।

তিনি জানান, পরবর্তী সময়সূচি পরে পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

কোন দেশের আকাশপথ ব্যবহার না করা বা কী ধরনের বাধার কারণে ফ্লাইটটি বিলম্বিত হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি পর্যায় থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।