শনিবার

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩

হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত মিলে সিদ্ধান্ত নেবে, আশা যুক্তরাষ্ট্র

বাংলা এডিশন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৭

শেয়ার

হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত মিলে সিদ্ধান্ত নেবে, আশা যুক্তরাষ্ট্র
ছবি সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে তারা এখনো নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান নেয়নি।

বুধবার নিউইয়র্কে এক অন-ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের এ অবস্থান জানান। নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি শিরোনামে ওই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

২০২৪ সালের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন।

ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের অনুপস্থিতিতে চলা বিচার চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ চেয়েছেন।

ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বৈরিতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, দুই দেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে। শেখ হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি বলেও তিনি জানান।

আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে বক্তব্য

ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়।

জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কিছু বলতে চায় না। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খুবই চমৎকার অবস্থায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে চায়। বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী ও নিরাপদ করার কাজের পাশে থাকার কথাও জানান তিনি। বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কার্পণ্য নেই বলেও মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা। এ কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলে জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্দিষ্ট করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারকেই নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তিন বৃহৎ শক্তির মধ্যে কোনো একটিকে বেছে না নিয়ে কীভাবে সবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব, তা জানতে চাওয়া হয়।

জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ বিশ্বের একটি জটিল অংশে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্র সবসময় উৎসাহ দেয়, প্রতিটি দেশ যেন নিজেদের পরিমণ্ডলে অবস্থান করে।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব সুসংহত রাখতে এবং দেশটির ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে চায় বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিকল্প কিছু তুলে ধরতে চায়। কাউকে বেছে নেওয়ার কথা না বলে এসব দেশের জন্য বিকল্প হতে চায় ওয়াশিংটন।

তারেক রহমানের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি লিখেছিলেন এবং তার সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। নিউইয়র্কে দুই নেতার মধ্যে সাক্ষাতের সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চান তিনি।

জবাবে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্টের সময়সূচির বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

তবে তিনি জানান, এ সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে খুবই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগও হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সব পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ বা ছবি তোলার সুযোগ হয়নি।

দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে বিথানী মরিসনের বক্তব্য

ব্রিফিংয়ের আগে নিউইয়র্কের ফরেন প্রেস সেন্টারে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও সেন্ট্রাল এশিয়া বিষয়ক উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানী মরিসন দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আলোকে বক্তব্য দেন।

এরপর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটো সেশনে অংশ নেন।