শুক্রবার

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০ আশ্বিন, ১৪৩৩

জাতিসংঘে দূরদর্শী ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

বাংলা এডিশন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫৫

আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫৯

শেয়ার

জাতিসংঘে দূরদর্শী ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
ছবি সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ভাষণের প্রশংসা করে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবন থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

অভিনন্দন বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দূরদর্শী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দিয়েছেন। এ ভাষণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনীতি, নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।

গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি

ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে বাংলাদেশ বর্তমানে ফ্যাসিবাদমুক্ত। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে বলেও ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। জনগণই রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার কথা স্মরণ করেন। দেশ ও জনগণের স্বার্থ এবং শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সংঘাত সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতির আহ্বান

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাতের প্রভাবে অশান্ত পরিস্থিতি, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে বলে ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বলেও তিনি জানান।

যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত বলে তিনি মত দেন। বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাকে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায় বাংলাদেশ। পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতিও বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে দীর্ঘ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে আশ্রয় দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এতে দেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়াকেই তিনি সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন।

এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ও কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া পর্যন্ত জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষা

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বলে ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের তেমন ভূমিকা না থাকলেও দেশটিকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহন করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে কপ-৩১-এ আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিবেশ সুরক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি, ক্লিন এনার্জি ও সোলার এনার্জির ব্যবহার বাড়ানো এবং বন্যা-খরা মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচির কথাও তিনি তুলে ধরেন।

সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি ও বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধের পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে ১৯৯২ সালের ওয়াটার কনভেনশন স্বাক্ষরের কথাও জানান তিনি।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা

বাংলাদেশকে মেরামতে সরকার রিকভারি, রেস্টারেশন ও রিকনস্ট্রাকশন অর্থাৎ ৩-আর কৌশল অনুসরণ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করতে চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখার কথাও জানান।

নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি

নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নারী উদ্যোক্তা তৈরিকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার কথা জানান তিনি।

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালুর কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ফ্যামিলি কার্ডকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করার কথাও জানান তিনি।

বিভিন্ন খাতে সহায়তার জন্য চালু করা কার্ডগুলো সমন্বয় করে একটি ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও ভাষণে উল্লেখ করেন।

৩১ দফা কর্মসূচি ও শিক্ষা খাত

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচি সরকার বাস্তবায়ন করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এসডিজির লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সরকারের ৩১ দফা কর্মসূচির ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশ কার্যক্রমের পরোক্ষভাবে মিল রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শহর ও গ্রামের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি ২০৩০ এজেন্ডার সব ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্পোর্টসকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এবার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপির অংশ ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

প্রথম শ্রেণি থেকে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের ব্যাগ, স্কুল ইউনিফর্ম ও বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে শিক্ষা সিলেবাসে প্রথমবারের মতো স্পোর্টস বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান। গত জুন মাসে সারাদেশে মাসব্যাপী আয়োজিত স্কুল শিক্ষার্থীদের ফুটবল টুর্নামেন্টে ২ মিলিয়নের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে বলে ভাষণে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুযোগ নিশ্চিতের আহ্বান

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়ো-টেকনোলজি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করছে। প্রযুক্তির সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয় উল্লেখ করে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ডিজিটাল বিভাজন যেন ভবিষ্যতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশের সুফল ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে সহায়তার প্রত্যাশা

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। উত্তরণ প্রক্রিয়া টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

আঞ্চলিক পর্যায়ে বাণিজ্য সহায়তা ও সম্প্রসারণ, কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থবহ সহযোগিতার মাধ্যমে দেশগুলোর পারস্পরিক সমৃদ্ধিতে সহায়তা করা সম্ভব বলে ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কোভিড মহামারি থেকে শিক্ষা নিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসা-সামগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

গণতন্ত্র, বিনিয়োগ ও জনগণের ক্ষমতায়নের কথা

জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি স্বনির্ভর কল্যাণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। দলমত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।

গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগ পরিবেশে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানোর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন, নারীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা এবং শিশুদের সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা জানান। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি ভাষণ শেষ করেন।