পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক আরও গভীর ও সুসংহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শেহবাজ শরীফ ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে দুই সরকারপ্রধান এক আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাদের মধ্যকার প্রথম বৈঠক।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠক প্রসঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে দুই দেশের সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা করা হয় এবং পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্কের বর্তমান ইতিবাচক গতিপ্রবাহ নিয়ে উভয় নেতা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব লাভ করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। একই সঙ্গে বিশ্ব সংস্থার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের যাবতীয় পদক্ষেপে পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে পাকিস্তানের অটল প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন শেহবাজ শরীফ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আরও জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সমভাবাপন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এই ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পাকিস্তান-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও উন্নত ও এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে তার সরকারের দৃঢ় আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে দুই নেতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক যোগাযোগ (কানেক্টিভিটি), শিক্ষা, পর্যটন এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ (পিপল-টু-পিপল কন্টাক্ট) জোরদারে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে তাদের মধ্যে মতবিনিময় হয়। বিশেষ করে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিক সমন্বয় বজায় রাখার ওপর দুই নেতাই গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা যায়, বৈঠকে দুই দেশের সরকারপ্রধান পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য বিভিন্ন খাত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার অপরিহার্যতার ওপর উভয় নেতাই বিশেষ জোর দেন।
আরও পড়ুন:







