আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবিতে বাংলাদেশের সমর্থনের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে ফিলিস্তিন ও এর জনগণের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারসহ ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথা জানান তিনি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
সংঘাতের কারণে বাড়ছে মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট
তারেক রহমান বলেন, বিশ্বায়নের এই সময়ে বিশ্বের যে প্রান্তেই যা কিছু ঘটুক, প্রতিটি রাষ্ট্রেই কমবেশি এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মানবসৃষ্ট বিরাজমান সংঘাতের কারণে বর্তমানে অনেক দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে মানবিক সংকট।
তিনি বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা-সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই দ্বিপাক্ষিক কিংবা বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যাশা একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্বসমাজ, যেখানে মারণাস্ত্র নয়; বরং পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা। একে অপরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্বসমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসংঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ।
ফিলিস্তিনের ন্যায্য দাবিতে বাংলাদেশের সমর্থন
তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির অন্তরায়। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এরপর স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।
বহুপাক্ষিকতার নীতিতে অটল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ সরকারপ্রধান বলেন, চলমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations that Delivers for All অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিকতার নীতিতে অটল বাংলাদেশ।
তারেক রহমান বলেন, পিসবিল্ডিং কমিশনের ভাইস-চেয়ার হিসেবে টেকসই শান্তি, সংঘাত প্রতিরোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্য হিসেবেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা।
তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারীদের সাহসী অংশগ্রহণ নারীর অগ্রযাত্রা, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
উন্নয়ন ও অভিবাসনে বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রত্যাশা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এ বছর উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণার ৪০তম এবং ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার ২৫তম বার্ষিকী পালন করছে।
তিনি বলেন, অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন। বিশ্বের অনেক দেশেই অভিবাসীরা তাদের জন্মভূমি এবং অভিবাসিত দেশ—উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ সরকার।
অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন:







