ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (গণিত) মোহাঃ শাহজাহান কবীরের বিরুদ্ধে এমপিও জালিয়াতি, তথ্য গোপন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে টাইম স্কেল ও উচ্চতর গ্রেড গ্রহণের অভিযোগ করেছেন একই বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এবিম মহিউদ্দীন।
এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে সুনির্দিষ্ট নথিপত্রসহ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগপত্র তথ্যে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক শাহজাহান কবীর এর আগে হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (গণিত) পদে ১৯৯৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন এবং ১৯৯৯ সালের আগস্ট মাসের এমপিও শিটে ১১তম কোডে প্রথম এমপিওভুক্ত হন। ওই বছরই তিনি বি.এড কোর্স সম্পন্ন করে ২০০০ সালের ১ জুন থেকে বি.এড স্কেলের ১০ম কোডে বেতন-ভাতা নেওয়া শুরু করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর বিধি অনুযায়ী, বি.এড স্কেল প্রাপ্তির পর ৮ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হলেই প্রথম টাইম স্কেল প্রাপ্য হয়—সেই হিসাবে তাঁর প্রথম টাইম স্কেল পাওয়ার কথা ছিল ২০০৮ সালে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সকল বিধি উপেক্ষা করে তিনি প্রথম এমপিও শিট ঘষামাজা করে বি.এড স্কেলের কোড পরিবর্তন করেন এবং ৮ বছর পূর্তি দেখিয়ে ২০০৫ সালের ডিসেম্বর মাসের এমপিও শিটে (০১/১১/২০০৫ তারিখ থেকে) অবৈধভাবে প্রথম টাইম স্কেল গ্রহণ করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পেয়ে আসছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহাজাহান কবীরকে একাধিক বার ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোহা: শাহাজাহান কবির এর সাবেক কর্মস্থল ভাতুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর জব্বার বলেন, শিক্ষক হিসেবে শাহজাহান কবীর মোটেও সুবিধার ছিলেন না। টাইম স্কেল জালিয়াতি ছাড়াও ধার-দেনা সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব ঘটনার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবাই তাঁর ব্যাপারে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির (এডহক কমিটি) সভাপতি মোছা. শিরিন বানু মুঠোফনে জানান,আগামী কয়েদিনের মধ্যে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং ডাকা হয়েছে, আমরা সবদিক যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।
পীরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আরিফুল্লাহ মুঠোফোনে জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং
এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়নি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শহীন আকতার বলেন অভিযোগ পেয়েছি আমরা তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক রফিকুল হক মুঠোফোনে জানান, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তিনি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:







