বৃহস্পতিবার

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে তথ্য নেই প্রতিমন্ত্রীর কাছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৬

শেয়ার

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে তথ্য নেই প্রতিমন্ত্রীর কাছে
ছবি সংগৃহীত

সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কথা বলা হলেও এখনো এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে প্রতিদিনই শত শত অভিবাসন প্রত্যাশী বোয়েসেল কার্যালয়ে ভিড় করছেন। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারাও জানেন না, কবে থেকে শুরু হবে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম।

বোয়েসেলের একাধিক কর্মী জানান, নতুন করে এ বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি। অফিসে একটি নোটিশ টাঙানো রয়েছে, যেখানে ৩১ তারিখ থেকে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মালয়েশিয়ায় কবে কর্মী পাঠানোর জন্য কলিং শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সরকারি দপ্তরে হালনাগাদ তথ্য কার কাছে রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সদস্যদের একাংশের সঙ্গে বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ স্বীকার করেন, মালয়েশিয়া ইস্যুতে সরকার তাকে সব তথ্য জানায় না।

এ বিষয়ে মো. মোখতার আহমেদ বলেন, ‘এই মালয়েশিয়ার যে ইস্যুটা, এই ইস্যুটা থেকে প্রথম থেকেই সরকার বা কর্তৃপক্ষ আমাকে একটা সার্টেন ইনফরমেশনের বাইরে কিছুই জানায়নি।’

অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকও মালয়েশিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ার বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। এ বিষয়ে আমি কথা বলতে চাই না। বিষয়টি মন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন। মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা—তারা যদি শুরু থেকেই বিষয়টি দেখভাল করে থাকেন, মালয়েশিয়ার বিষয়টি তারা ভালো বলতে পারবেন।’

বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর বক্তব্য নিতে কয়েকবার তার দপ্তরে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে দেশটির ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সঙ্গে বাংলাদেশের দুই দফায় আলোচনা হয়েছে। তবে ওই আলোচনায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ও প্রতিমন্ত্রীর কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এই সমন্বয়হীনতা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে বলে মনে করেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘যদি মালয়েশিয়ার একটা সেক্টরের কথাই আমরা ধরি, এখানে অনেক স্টেকহোল্ডার, অনেক অংশীদার আছেন। এখানে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা আছেন। তাদের একটা সমন্বয় যেমন দরকার, পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ও দরকার, যেহেতু এটা প্রবাসকেন্দ্রিক একটা বিষয়।’

প্রথমে সরকারি পর্যায় থেকে আগস্টের শেষে মালয়েশিয়ার অভিবাসন কার্যক্রম চালুর কথা বলা হয়েছিল। পরে সেই সময় পিছিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ করা হয়।