বৃহস্পতিবার

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

ময়ূখরঞ্জন প্রশিক্ষণ দিবেন বাংলাদেশি সাংবাদিকদের!

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:২১

শেয়ার

ময়ূখরঞ্জন প্রশিক্ষণ দিবেন বাংলাদেশি সাংবাদিকদের!
ছবি সংগৃহীত

টিভির পর্দায় ভারতের বিতর্কিত সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন! খবরের নামে স্টুডিওতে যার গগনবিদারী চিৎকার আর দৌড়াদৌড়ি রীতিমতো হাসির খোরাক জোগায় নেটদুনিয়ায়।

এমন একজন সাংবাদিকই যদি উদাহরণ হিসেবে সবার সামনে দাঁড়িয়ে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ক্লাস নেন, কেমন হবে দৃশ্যপট?

যে দেশের জনগণই তাদের নিজেদের মিডিয়াকে গোদি মিডিয়া বলে আখ্যা দেয়, কিংবা সংবাদ ও বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তারা বাংলাদেশকে কী সাংবাদিকতা শেখাবে, তা নিয়েই এখন বিতর্ক তুঙ্গে।

শেখ হাসিনার ফোনালাপ ও হাই কমিশনের পোস্ট

সম্প্রতি ভারতে অবস্থানরত সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, যেসব সংবাদমাধ্যম এতদিন আওয়ামী লীগ ও ভারতের দালালি করেছে, তারা এখন রাতারাতি অবস্থান বদলে বিএনপি ও তারেক রহমানের দালালি করছে।

শেখ হাসিনার ওই ক্ষোভ প্রকাশের পরপরই, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেয় ভারতীয় হাই কমিশন।

তাদের ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, ভারত সরকারের আইটেক স্কিমের অধীনে আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর হায়দ্রাবাদে একটি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিমান ভাড়া থেকে শুরু করে থাকা-খাওয়া আর পকেট খরচ, সবই ফ্রি!

অর্থনীতি ও বাণিজ্য খাতের সাংবাদিকদের জন্য এই কোর্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শেখানোর কথা বলা হলেও, নেপথ্যে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের পুরোনো খেলা কিনা, সেই প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে আর হাসিনার বক্তব্যের পরই প্রশিক্ষণের টাইমিং নিয়েও বিশ্লেষকরা গভীর ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে।

অনেকেই তো সরাসরি বলছে, সাংবাদিকদের জন্য ভারত সরকারের এই ফ্রি আইটেক কোর্স আদতে সস্তায় বাংলাদেশ থেকে র-এর এজেন্ট সংগ্রহের এক নতুন কৌশল মাত্র!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, ভারতীয় হাই কমিশনের ওই পোস্টের নিচেই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। আরিফুল স্পিকস নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ময়ুখ শিখাবে নাকি? কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়িত হবে না। আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী মো. ইউসুফ আলীর মন্তব্য আরেকটু ধারালো, তিনি বলেন, দালালী কীভাবে করতে হয় তাই শিখানো হবে। র-এর এজেন্টের যে শঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, তার প্রতিধ্বনি শোনা গেল মেরাজ আহমেদ নামের এক নেটিজেনের কণ্ঠেও। তিনি লিখেছেন, এই কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা শতভাগ র-এর অধীনে কাজ করবে। তানভীর সিয়াম তো দাবিই তুলেছেন, যারা এই প্রশিক্ষণে যাবেন, রাষ্ট্র যেন তাদের ওপর নজর রাখে।

প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সের পরিসংখ্যান

সবচেয়ে বড় কৌতুকটি লুকিয়ে আছে পরিসংখ্যানে। ইসলাম মালিক মো. আমরুল নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেই অমোঘ সত্যটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে ৫ ধাপ এগিয়ে।

নিজের দেশের র‍্যাংকিং তলানিতে রেখে অন্য দেশকে সাংবাদিকতা শেখানোর এই আস্ফালনে তাই হাসছে দেশের মানুষ। হাসিবুজ্জামান ভূঁইয়ার মতে, বাংলাদেশের সাংবাদিকতা যেমনই হোক, ভারতের গোদি মিডিয়ার চেয়ে তা হাজার গুণ ভালো।

ভৌগোলিক আক্ষেপ আর আধিপত্য বিস্তারের এই দীর্ঘশ্বাসই বলে দেয় অনেক কিছু। ৫ আগস্টের পর থেকে যে ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশ নিয়ে গুজবের কারখানা খুলে বসেছে, তাদের কাছ থেকে নীতি-নৈতিকতার পাঠ নেয়া কতটা যৌক্তিক? উঠেছে সেই আলাপ। দিল্লির এই নতুন ফাঁদে ঢাকার মিডিয়া পা দেবে কি না, সিদ্ধান্ত সময়ের হাতে।