বুধবার

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩

বিদ্যুৎ খাতে ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:০৪

শেয়ার

বিদ্যুৎ খাতে ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালী করতে ২০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ ঋণের মাধ্যমে ঢাকার আশপাশের উপশহরীয় এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও সহনশীলতা বাড়ানো হবে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হবে।

১৩ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অবকাঠামো উন্নয়ন

পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট বা বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (বিআরইবি) সহায়তা করবে। এর আওতায় ঢাকার আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও শহরাঞ্চলে সেবা দেওয়া ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নত করা হবে।

এডিবির সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সাবস্টেশনে অতিরিক্ত লোড, পুরোনো অবকাঠামো, বিদ্যুৎ অপচয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মতো বিদ্যুৎ সেবা প্রদানে বাধা সৃষ্টিকারী সমস্যা মোকাবিলায় সহায়তা করা হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশ যখন আরও সমৃদ্ধ, সহনশীল ও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী অবকাঠামো ও দুর্যোগ-সহনশীলতা বৃদ্ধির পদক্ষেপের সাহায্যে ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধি-কেন্দ্রিক এলাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে।

৫২ সাবস্টেশনে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন

প্রকল্পের আওতায় ৫২টি সাবস্টেশনে ১ হাজার ১৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হবে। বিদ্যমান ১২টি সাবস্টেশনের সক্ষমতা বাড়ানো হবে ১১৫ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার।

এ ছাড়া নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি ওভারহেড ও আন্ডারগ্রাউন্ড বিতরণ লাইন নির্মাণ বা উন্নয়ন এবং ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হবে।

সিস্টেম পরিচালনার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নদী-পারাপারের উপযোগী সঞ্চালন কাঠামো ও সুইচিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে। দ্রুত ত্রুটি শনাক্তকরণ ও সেবা পুনরুদ্ধারের জন্য স্থাপন করা হবে ৯০০টি ফল্ট লোকেটর সেট বা ত্রুটি শনাক্তকারী যন্ত্র।

দুর্যোগ-সহনশীলতায় ১৪ দশমিক ৬৫ কোটি ডলারের অর্থায়ন

২০২২ সালে বাংলাদেশ শতভাগ বিদ্যুতায়ন অর্জনে সক্ষম হলেও দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। প্রকল্পটি ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী উন্নয়নে সহায়তা করবে।

এই প্রকল্পের জন্য এডিবির বিশেষ রেজিলিয়েন্স ফাইন্যান্সিং বা দুর্যোগ-সহনশীলতা বিষয়ক অর্থায়নের পরিমাণ ১৪ দশমিক ৬৫ কোটি ডলার।

এর আওতায় পরিবেশবান্ধব গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার প্রযুক্তির মতো অভিযোজন-সহায়ক ব্যবস্থার জন্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উন্নত বিতরণ দক্ষতা ও কারিগরি অপচয় কমানোর মাধ্যমে এ উদ্যোগ বছরে প্রায় ২ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে।

বিআরইবি ও পিবিএসের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে

প্রকল্পটি ডিজিটাল সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, সাইবার নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল কার্যক্রম পরিচালনা, পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিআরইবি ও পিবিএসগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াবে।

পিবিএসগুলোর আর্থিক স্থায়িত্ব জোরদারের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের অধিকতর অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করা হবে।

এ ছাড়া নারী ও মেয়েদের চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল বিভিন্ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হবে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নয়নের বিষয় রয়েছে।

এডিবির সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ১০৭ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিআরইবির পক্ষ থেকে ১৪১ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলারের সহ-অর্থায়ন যুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া এডিবির ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত রিপাবলিক অব কোরিয়া ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড থেকে পাওয়া ১ মিলিয়ন ডলারের কারিগরি সহায়তা অনুদান প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, আর্থিক স্থায়িত্ব বিষয়ক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।