তেলের দাম বৃদ্ধির প্রশ্নের জবাবে অসংলগ্ন ব্যাখ্যা। যেভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি। তেলের দাম বাড়লেও পণ্যের সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী।
বিশ্ববাজারের উদাহরণ দিয়ে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দেশে তিনবার বাড়ানো হলো জ্বালানি তেলের দাম। বাৎসরিক প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের চাহিদার বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল কিনতে হচ্ছে ২৫০ টাকায়। এর আগে ১১৫ টাকায় বিক্রি করায় লিটারপ্রতি সরকারের লোকসান ছিল প্রায় ৯০ টাকা। এবার এক লাফে ২০ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫ টাকা। সরকার বলছে এরপরও লিটারে ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে তাদের। তবে এই অংকের হিসাব সাধারণ মানুষের পকেটের দুশ্চিন্তা কমাতে পারছে না।
সাপ্লাই চেইনে প্রভাব ও বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধিতে সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও সাপ্লাই চেইনে। বাজারে এমনিতেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি তার ওপর তেলের এই নতুন দাম যেন সাধারণ মানুষের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। জনগণের এই উদ্বেগের বিষয়ে সচেতন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আশ্বস্ত করেছেন তেলের দাম বাড়ার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সাপ্লাই চেইন যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন বিশ্বের অনেক দেশে তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হয় কিন্তু দেশে সরকার নির্ধারণ করে বলে এর প্রতিক্রিয়া বেশি দেখা যায়। বর্তমানে গ্যাস সংকট সমাধান হওয়ায় চিনি বা সয়াবিনের মতো কারখানাগুলো পুরোদমে চলছে তাই বাজারে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশা তার।
উপদেষ্টার স্বীকারোক্তি
অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান শোনালেন আরেক যুক্তি। অকপটেই স্বীকার করলেন তিনি এখন সরকারে আছেন বলেই তেলের দাম বৃদ্ধি মেনে নিচ্ছেন সাধারণ অ্যাক্টিভিস্ট থাকলে ঠিকই সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেন।
নেতাদের ব্যাখ্যা ও আলোচনা
তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সরকারি দলের নেতাদের ব্যাখ্যা জন্ম দিয়েছে আলোচনার। প্রশ্নের কাঙ্খিত উত্তর মিলছে না অনেকক্ষেত্রেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দাবি লিটারে ২০ টাকা দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এসময় জ্বালানি প্রসঙ্গে বিরোধীদলের লং মার্চের সমালোচনা করেন রিজভী। এছাড়া যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের দাবিও প্রায় একইরকম। তার মতে অন্য কেউ ক্ষমতায় থাকলে তেলের দাম লিটারে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় গিয়ে ঠেকতো।
এই অবস্থায় আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে মূল সংকট পাশ কাটিয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে ভিন্ন প্রসঙ্গ। জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন টেনে আনলেন বিরোধীদল জামায়াতের সাবেক এক এমপির পুরোনো স্ক্যান্ডাল। তেলের দাম নিয়ে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিরোধী দলের নৈতিকতা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য জনমনে তৈরি করছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। গঠনমূলক সমাধানের বদলে একে অপরকে দোষারোপ আর দায় এড়ানোর এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে না এলে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি কমবে না বলেই মত সচেতন মহলের।
আরও পড়ুন:







