বুধবার

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩

সর্বশেষ
রাসুলের আদর্শ অনুসরণেই মানবজাতির কল্যাণ: মিয়া গোলাম পরওয়ার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রশ্নের জবাবে অসংলগ্ন ব্যাখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আমাদের ‘সন্ত্রাসী’আখ্যা দিয়েছেন, অথচ আমরাই সন্ত্রাসের শিকার: ইরানের প্রেসিডেন্ট আওয়ামী নেতাদের লাগামহীন বক্তব্য এখন ট্রলের উপাদান হজের টাকা জমা নিতে আগামী শুক্র-শনিবার সারাদেশে ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প ব্যবস্থায় এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ইউপি নির্বাচনে জামানত-ভোটের ব্যয় বাড়লো নির্বাচন কমিশন গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত তিন, ট্রাকচালক আটক

আওয়ামী নেতাদের লাগামহীন বক্তব্য এখন ট্রলের উপাদান

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৪৭

শেয়ার

আওয়ামী নেতাদের লাগামহীন বক্তব্য এখন ট্রলের উপাদান
ছবি সংগৃহীত

রাজনীতিতে ক্ষমতার পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও, গত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের দেয়া বেশ কিছু বক্তব্য এখন রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অদ্ভুত উপাদান হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতার শীর্ষ চূড়া থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়, সাবেক শাসকদলের নেতাদের একসময়ের দাপুটে হুংকার, অদ্ভুত অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা কিংবা প্রশাসনিক আত্মতৃপ্তির বজ্রকণ্ঠগুলো আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ব্যঙ্গ বা মিমের উপাদানে রূপান্তরিত হয়েছে।

শেখ হাসিনার ঘোষণা ও পলায়ন

তালিকায় শুরুর দিকেই থাকবেন সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাইক্রোফোনের সামনে একাধিকবার দেয়া তাঁর চিরচেনা ঘোষণা ‘শেখ হাসিনা পালায় না’, কিংবা ‘কচুপাতার পানির মতো টোকা দিলে সরকার পড়ে যাবে না’, সংলাপগুলো ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাস্তবতায় সাইবার দুনিয়ার সবচেয়ে ট্রেন্ডিং ট্রল টেমপ্লেট। রাজনীতির অভিধানে ‘স্থায়িত্ব’ ও ‘পলায়ন’ শব্দ দুটির বিপরীতমুখী রূপান্তর এখন নেটিজেনদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ওবায়দুল কাদেরের খেলা হবে

রাজনীতিকে ক্রীড়াক্ষেত্রে রূপ দেয়া, ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ‘খেলা হবে’ বা ‘তলে তলে আপস হয়ে গেছে’ ডায়ালগ ছিল সংবাদমাধ্যমের নিয়মিত উপাদান।

বিরোধীদের উদ্দেশ্যে যিনি প্রতিনিয়ত বলতেন ‘পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না’, ক্ষমতার পটপরিবর্তনে তিনি নিজেই কোন অলিগলি দিয়ে রাজপথ ছাড়লেন, তা নিয়ে ক্লিপ বের করে ট্রল বানাচ্ছে সাইবার বিশ্লেষকরা।

অর্থনৈতিক তত্ত্ব ও বাজার পরামর্শ

একইভাবে, স্থান পেয়েছিল মন্ত্রিসভার অলৌকিক অর্থনৈতিক সব তত্ত্ব। দেশের তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতি চলাকালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের দাবি ছিল, ‘বাংলাদেশের মানুষ বেহেশতে আছে’।

অন্যদিকে, বাজার সিন্ডিকেট সামলাতে না পেরে স্বৈরাচারী সরকারের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির পরামর্শ ছিল ‘পেঁয়াজ খাওয়া কমিয়ে দেয়া, আর সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রীর উক্তি ছিল ‘কচুরিপানা গরু খেতে পারলে মানুষ কেন পারবে না?’। বাস্তবতার সাথে যোজন যোজন দূরত্বের এসব মন্তব্য আজ নেটপাড়ায় বিনোদনের রসদ। একইসাথে, ক্ষোভেরও।

পলকের ডেটা সেন্টার ব্যাখ্যা

প্রযুক্তির যুগে সবচেয়ে আলোচিত কাল্পনিক গল্প শুনিয়েছিলেন সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। জুলাই আন্দোলনে, সারাদেশে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট করে ‘ডেটা সেন্টারে আগুন লাগার’ বা আমরা ইন্টারনেট বন্ধ করেননি, বন্ধ হয়ে গেছে, যে ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছিলেন, তা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এক ক্লাসিক মিথ্যাচার হিসেবে স্থান পেয়েছে।

তথ্যমন্ত্রীদের ডায়ালগ

একইসাথে টকশো ও মিডিয়ায়, ওই সরকারের তখনকার তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের নির্ভেজাল সফেদ যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা কিংবা সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও হাসানুল হক ইনুর ‘বিরোধীদল খাদের কিনারে’ ডায়ালগগুলো আজ যেন বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে তাদের জীবনেই।

স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর মন্তব্য

প্রশাসনিক নির্লিপ্ততার অনন্য নজির ছিল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ‘পরিস্থিতি কন্ট্রোলে আছে’ বা ‘গুলি তো তারা করেননি’ মন্তব্যে। তোতাপাখির মতো আউড়ানো সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে’ বাক্যটি আজ তাঁর নিজের দিকেই ধাবিত।

আর নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় সাবেক নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের সেই অট্টহাসি ক্ষমতার সংবেদনহীনতার প্রতীক হয়ে রয়ে গেছে।

সংসদে বিদ্যুৎ নিয়ে গান

আইন প্রণয়নের পবিত্র স্থান জাতীয় সংসদও পিছিয়ে ছিল না। তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে সংসদে বসে সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ে ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়া নিশ্চিত হয়েছে’ গান গাওয়ার দৃশ্যটিকে নেটিজেনরা অভিহিত করছেন শতাব্দীর বড় ডিজিটাল কৌতুক হিসেবে।

স্থানীয় নেতাদের আস্ফালন

মাঠের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমানের ‘ফতুল্লায় এসে দেখে যান’, জাহাঙ্গীর কবির নানকের ‘লুঙ্গির তলে হাত দিয়ে কথা বলবেন না’ বা সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের ‘কাউকে ঢাকায় ঢুকতে দিবেন না’ এসব আস্ফালন এখন জনমানবহীন ফাঁকা রাজপথের ছবির সাথে মিলিয়ে ট্রল করা হচ্ছে।

একইভাবে রাজপথের ভ্যানগার্ড খ্যাত ছাত্রলীগ ‘মাঠে নামলে বিরোধীরা পালানোর পথ পাবে না’ গর্জনের বিপরীতে ফাঁকা ক্যাম্পাসের দৃশ্য তৈরি করেছে এক নীরব বৈপরীত্য।

বিশ্লেষকদের মত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার বলয়ে থাকার সময় রাজনীতিবিদরা যা বলেন, তার বাস্তবতা ইতিহাস নির্ধারণ করে। ক্ষমতার দম্ভ ও অসংবেদনশীল বক্তব্যগুলো সাময়িকভাবে রাজপথ কাঁপালেও, ডিজিটাল এই যুগে তা হারিয়ে যায় না। ইতিহাস ও সাইবার বিশ্ব সেসব পরম যত্নে সংরক্ষণ করে রাখে, যা আজকের দিনের ট্রল হলেও, ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এক অনন্ত সতর্কবার্তা। যে বিদ্রুপ আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী নেতারা দেশের মানুষের সাথে করে গেছে, রাজনীতিবিদদের থেকে সেই বিদ্রুপ আর চায় না নতুন বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা। কথা-কাজের আন্তরিকতা এবং ভারসাম্য দাবি তাদের।