মঙ্গলবার

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭ আশ্বিন, ১৪৩৩

বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ!

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৫২

শেয়ার

বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ!
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা বাঁক পেরিয়ে এবার অর্থনৈতিক সমীকরণের নতুন দুয়ারে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক। ঢাকায় পাকিস্তানি পণ্যের প্রদর্শনী ঘিরে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও প্রতিনিধিদের কণ্ঠে উঠে এসেছে বাণিজ্যের এক নতুন মেরুকরণ।

পাকিস্তান এক্সিবিশন শুরু

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর), রাজধানীর বসুন্ধরায় আইসিসিবি কনভেনশন হলে প্রায় একশো পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে পাঁচ দিনব্যাপী শুরু হয়েছে পাকিস্তান এক্সিবিশন। টেক্সটাইল, খাদ্যপণ্য, নারী উদ্যোক্তা ও বুটিকসহ বিভিন্ন খাতের পণ্য ও সেবা তুলে ধরছে দেশটির ব্যবসায়ীরা। ঢাকার মাটিতে সম্পর্কের নতুন বার্তা নিয়ে এবার চতুর্থবারের মতো মাত্রা পাচ্ছে এই আয়োজন।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে এফটিএ ও যৌথ বিনিয়োগের তাগিদ

শুধু পণ্য প্রদর্শন নয়, দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার ওপর জোর দিচ্ছে আয়োজকরা। তাদের প্রস্তাব—দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে প্রয়োজন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে যৌথ বিনিয়োগ এবং জয়েন্ট ভেঞ্চার গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে সেখানে।

দুই দেশের বাণিজ্য উন্নত করতে এফটিএ, যৌথ বিনিয়োগ ও জয়েন্ট ভেঞ্চারের ওপর গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন পিএইআই চেয়ারম্যান খুরশিদ বারনাস। তার মতে, পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি কাটিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে দুই দেশকে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

হাইকমিশনারের গুরুত্বারোপ

সেইসঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, স্বাস্থ্যসেবা, আইসিটি, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে পারস্পরিক সহযোগিতার বড় সুযোগ রয়েছে বলেও তার বক্তব্যে উঠে আসে।

দর্শনার্থী ও ব্যবসায়ীদের সাড়া

এদিকে প্রদর্শনীতে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে বলে মত ব্যবসায়ীদের। একইসঙ্গে, ইতিপূর্বেও এই এক্সিবিশনে ভালো সাড়া পেয়েছে বলে জানায় তারা।

অপরদিকে, এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও, বেশ উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।

বাণিজ্যের পুরোনো দেয়াল ভেঙে নতুন বাজারের সন্ধান—দুই দেশের ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা এমনই। আর সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবের মাটিতে রূপ দিতে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা আর নতুন বাণিজ্যিক উদ্যোগের হাত ধরেই এগিয়ে যেতে চায় তারা। বদলে যাওয়া সময়ের স্রোতে অর্থনীতির এই নতুন সেতুবন্ধন যেন আরও দৃঢ় হয়—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।