মঙ্গলবার

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭ আশ্বিন, ১৪৩৩

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যুতে গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৩৩

শেয়ার

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যুতে গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বৈষম্য এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে একটি প্রার্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন তিনি।

২৩ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যু

প্রধানমন্ত্রীর ২৩ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ওই দিন তিনি বিভিন্ন দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের আয়োজনে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেবেন।

একই দিন জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

রোহিঙ্গা সংকটকে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত একটি সাইড ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। সেখানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন তিনি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন বৈশ্বিক সংকটের কারণে রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ কিছুটা কমেছে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কারণে অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়। প্রধানমন্ত্রী এ সংকটের প্রতি আবারও বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন।

জাতিসংঘে ভাষণ ও জলবায়ু অর্থায়নের দাবি

২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানও বিভিন্ন সভায় তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি ও জলবায়ু ন্যায্যতার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে।

এ ছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মিডওয়াইফারি সেবার গুরুত্ব তুলে ধরবেন তিনি।

বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। আন্তর্জাতিক শান্তি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে মেটা ও ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে।

জ্বালানি মূল্য, গ্যাস কূপ ও বোয়িং ক্রয় প্রসঙ্গে

প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পাশাপাশি রাশিয়ায় জ্বালানি খাতে ইউক্রেনের আক্রমণসহ বৈশ্বিক নানা সংকটের কারণে দেশে জ্বালানি মূল্য বাড়ানো ঠিক আছে। তবে সাধারণ জনগণের ওপর যাতে চাপ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সরকারের দৃষ্টি রয়েছে। বাসভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ভূমিকা নেবে।

গ্যাস কূপ খনন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া আরও নয়টি কূপ খননের উদ্যোগ রয়েছে।

বোয়িং ক্রয় প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বোয়িং কিনছে—এটি প্রকাশিত তথ্য। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরকালে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক কিংবা নিশ্চিত কোনো কর্মসূচি জানা নেই। তবে বোয়িং কেনার বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে।