মঙ্গলবার

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭ আশ্বিন, ১৪৩৩

জাতিসংঘে আমাদের বিরাট পদোন্নতি, উচ্ছ্বাস ড. ইউনূসের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:১০

শেয়ার

জাতিসংঘে আমাদের বিরাট পদোন্নতি, উচ্ছ্বাস ড. ইউনূসের
ছবি সংগৃহীত

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একসময় ছোট ও সংকীর্ণ কক্ষ থেকে বড় পরিসরের মূলধারার আয়োজনে জায়গা পাওয়াকে নিজেদের বিরাট পদোন্নতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতিসংঘে আয়োজিত সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি শীর্ষক সাইড ইভেন্টের ১১তম আসরে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী দিনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান এবং তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট ও ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের বন্ধু জোসে রামোস-হোর্তা। অনুষ্ঠানে ব্রাজিলের মন্ত্রী ওয়েলিংটন দিয়াসসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

ড. ইউনূস বলেন, আগে এ ধরনের আয়োজনের জন্য জাতিসংঘের একটি ছোট কোণার কক্ষে জায়গা দেওয়া হতো, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের স্থান সংকুলান হতো না। এবার বড় পরিসরের কক্ষে বন্ধু ও অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি পাওয়ায় তিনি এটিকে বিরাট পদোন্নতি হিসেবে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে আবার ছোট কক্ষে ফিরতে হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে বলেও তিনি রসিকতা করেন।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, অধিবেশনের শুরুতেই পুরো সেশনে তাঁকে পাওয়া বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়। আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল ভাষার পরিবর্তে মানুষের কাছে শান্তি ও ন্যায্যতার স্পষ্ট বার্তা পৌঁছানোর প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

বক্তব্যে ড. ইউনূস ক্ষুদ্রঋণের ৫০ বছর পূর্তি এবং বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসার বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেন। নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রে গ্রামীণ আমেরিকার কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ দিয়েছে এবং ঋণ পরিশোধের হার প্রায় শতভাগ।

বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসার আওতায় পরিচালিত ১৫৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, টেলিমেডিসিন নেটওয়ার্ক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ চক্ষু হাসপাতালের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের আয় পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাবলম্বী করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অধ্যাপক ইউনূস জানান, প্রচলিত চাকরিপ্রত্যাশী তৈরির শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে গিয়ে আগামী ডিসেম্বরে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি তরুণদের সনদের চেয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেবে বলে জানান তিনি।

বিশ্বের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান পরিবর্তনের এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন ড. ইউনূস।