মাত্র ১৩ বছরের কিশোর অপ্রতীম। অকালে ঝড়ে যাওয়া এই ছেলেটির মৃত্যু ঘিরে ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে ধোঁয়াশার কালো মেঘ। সামনে আসতে শুরু করেছে একের পর এক এমন কিছু তথ্য, যা ঘিরে উন্মোচিত হচ্ছে মৃত্যুর নেপথ্যের অজানা এক অধ্যায়।
নিখোঁজ থেকে মরদেহ উদ্ধার
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী কিশোর অপ্রতীম। পরিবারের উৎকণ্ঠার মধ্যেই পরদিন দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ।
পুলিশের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি আইফোনকে ঘিরেই হত্যা করা হয় অপ্রতীমকে। এ ঘটনায় অপ্রতীম হত্যা মামলায় জড়িত তিন আসামি ও সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে বয়স কম হওয়ায় চারজনের মধ্যে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে জানা যায়।
এদিকে আসামি কামরুল হাসানের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সে সারাদিন বাড়িতেই ছিল।
তুহিনের নাম ও স্থানীয় অভিযোগ
এ ঘটনায় সরাসরি উঠে আসে সাইফুল ইসলাম তুহিনের নাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, তুহিন মাদকাসক্ত থাকায় নেশার টাকা জোগাড় করতেই অপ্রতীমের আইফোনের জন্য তাকে হত্যা করে। সেই সঙ্গে তুহিন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
এদিকে অপ্রতীমের মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিরূপ প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে বলেও জানান তারা।
ইলিয়াসের পোস্ট ও পুলিশের নতুন তথ্য
কিন্তু ঘটনা যেন এখানেই শেষ নয়। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ নিয়ে যখন আইফোনের বিষয়টিই সামনে, তখনই প্রশ্ন তোলেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইলিয়াস হোসাইন এ ঘটনার পেছনে মোবাইল নয়, বরং অন্য কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ইলিয়াস হোসাইনের এই পোস্টের কিছুক্ষণ পরই পুলিশের বক্তব্যেও সামনে আসে আরেকটি মোড়। তদন্তে অপ্রতীমের সঙ্গে এক কিশোরের ৫ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। এমনকি এই বিরোধের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও জানায় তারা।
চলাফেরা ও বন্ধুত্ব নিয়ে তথ্য
এর সঙ্গে সামনে আসছে অপ্রতীমের চলাফেরা ও বন্ধুত্ব নিয়েও নানা তথ্য। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, নিজের বয়সী সহপাঠীদের গণ্ডির বাইরে গিয়ে বয়সে বড় তরুণদের সঙ্গে তার নিয়মিত ওঠাবসা ছিল।
কেউ কেউ আবার এই বড়দের সঙ্গে মেলামেশার সূত্র ধরে কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততার প্রশ্নও তুলছেন।
অপ্রতীমের অকাল মৃত্যু তাই শুধু একটি পরিবারের বুক খালি হওয়ার গল্প নয়; বরং এর নেপথ্যে থাকা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাও এখন জরুরি মনে করছে দেশের সচেতন মহল।
আরও পড়ুন:







