রবিবার

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

প্রথম আলোর মালিক সিমিনের বিরুদ্ধে মামলা বাদীপক্ষের নারাজি আবেদন খারিজ

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:২৪

শেয়ার

প্রথম আলোর মালিক সিমিনের বিরুদ্ধে মামলা বাদীপক্ষের নারাজি আবেদন খারিজ
ছবি সংগৃহীত

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান ২০২০ সালের ১ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তাঁর বড় মেয়ে সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে ভাই হত্যা, অর্থ আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল এবং অবৈধভাবে শেয়ার হস্তান্তরের অভিযোগ আনেন ছোট মেয়ে শাযরেহ হক। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে শাযরেহ হক ও তাঁর ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমান জালিয়াতির বিষয়টি শনাক্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ট্রান্সকম গ্রুপের অধিকাংশ শেয়ার নিজের নামে নিতে ভাই-বোনের স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং ভুয়া পারিবারিক ডিড অব সেটলমেন্ট তৈরি করেন লতিফুরের বড় মেয়ে ও ট্রান্সকমের বর্তমান সিইও সিমিন রহমান।

আদালতের আদেশ

পরবর্তীতে গুলশান থানার ২১ (২) ২০২৪ নম্বর ওই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তবে, মামলার বাদী ও ট্রান্সকমের পরিচালক শাযরেহ হক পুনঃতদন্তের আবেদন করে না-রাজি দেন সিএমএম আদালতে। তখন, আদালত না-রাজি গ্রহণ না করে মামলাটি খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে, সিএমএম আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে শাযরেহ হক, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়ের করেন। যার শুনানি হয় রবিবার।

ঢাকা দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির আদালতের শুনানিতে, মামলাটির পুনঃতদন্তের আবেদন খারিজ করে দেন। তবে, বাদীপক্ষের আইনজীবী এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন। সেইসাথে, আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদনের কথা জানান তিনি।

বাদীপক্ষের অভিযোগ

এছাড়া, তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদীপক্ষের এডমিটেড সিগনেচার বাদ দিয়ে একটি কাল্পনিক বোর্ড রেজুলেশনের অসত্য দলিলের সাথে মিলিয়ে রিপোর্ট তৈরি করেন। দুইজন বিশেষজ্ঞের দুটি ভিন্নমত থাকায় একজন তৃতীয় বিশেষজ্ঞ বা ‘থার্ড আম্পায়ার’ নিয়োগের মাধ্যমে পুনঃতদন্তের দাবিও জানায় বাদীপক্ষ।

আদালতে বাদীপক্ষ আরও জানায়, দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭০ ও ৪৭১ ধারায় দলিল জালিয়াতি ও প্রতারণার কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিরা সর্বোচ্চ সাজা পাবেন।

প্রভাব ও অন্যান্য অভিযোগ

এদিকে, একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আসামী সিমিন রহমানের পক্ষে এই মামলায় অবৈধ প্রভাব খাটিয়েছেন। আর এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করেছেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম।

শুধু শেয়ার জালিয়াতিই নয়, অভিযোগ রয়েছে রাজধানীর গুলশানে লতিফুর রহমানের নামে থাকা ২ বিঘা ২ কাঠা জমির মধ্যে ৩৫ কাঠা জমিও ভুয়া হেবা দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে নেয়ার চেষ্টা করেন সিমিন রহমান।

পরবর্তীতে মামলা ধামাচাপা দিতে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ দেয়ার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হয়, যেখানে গত বছরের নভেম্বরে একজন উপপরিচালককে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

এর আগে, অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের এক অনুসন্ধানে, সিমিন রহমানের নানা অনিয়মের আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়। এরপরই, ট্রান্সকমের গ্রুপের নানা জালিয়াতি ঢালাওভাবে সামনে আসে সবার।

প্রভাবশালীদের প্রভাবে ও অর্থের বিনিময়ে বিচারব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এই অপচেষ্টার কঠোর তদন্ত দাবি করেছে সচেতন মহল। দ্রুত নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচন ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।