রবিবার

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

টোল আদায়ে অনিয়মের মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের প্রতিবেদন ১০ ডিসেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৫

শেয়ার

টোল আদায়ে অনিয়মের মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের প্রতিবেদন ১০ ডিসেম্বর
ছবি সংগৃহীত

মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১০ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালত এ তারিখ নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন তারিখ দেন বিচারক।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সাবেক সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।

চুক্তি নিয়ে যে অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক দরপত্র পদ্ধতিতে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে চলমান বৈধ টেন্ডার প্রক্রিয়া বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সিএনএসকে নির্দিষ্ট অর্থের পরিবর্তে মোট টোল আদায়ের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৪৮৯ কোটি টাকার বিল গ্রহণ করে।

অন্যদিকে, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই সেতুর টোল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা এমবিইএল-এটিটির জন্য ব্যয় হয়েছিল ১৫ কোটির কিছু বেশি টাকা।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ মেয়াদে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড তিন বছরের চুক্তি পায় ৬৭ কোটি টাকায়। পাঁচ বছরের হিসাবে ওই ব্যয় প্রায় ১১২ কোটি টাকা।

এই তুলনামূলক হিসাবের ভিত্তিতে দুদক দাবি করেছে, সিএনএসকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তি দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

ওই অভিযোগে গত বছরের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করে দুদক।